একজন দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হতে হবে

ফেনীতে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানছবি: বন্ধুসভা

‘স্কুলজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে তোমরা কলেজজীবনে প্রবেশ করছ। ভবিষ্যতে তোমাদের থেকে কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ জজ-ব্যারিস্টার, কেউ সাংবাদিক হবে। মনে রাখতে হবে, শুধু জিপিএ-৫ অর্জন নয়, ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় নিয়োজিত হতে হবে।’

ফেনীতে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানে প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ আগস্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ফেনী বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবদুল হালিম ও সভাপতি জান্নাত আক্তারের যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর ফেনী প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম। তিনি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের পক্ষে তাঁর লিখিত বক্তব্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পাঠ করে শোনান।

কৃতী শিক্ষার্থীদের দেশকে ভালোবেসে আলোকিত মানুষ হয়ে উঠতে আহ্বান জানান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ক্রেস্ট শুধু প্লাস্টিকের টুকরো নয়, এটি প্রেরণা। প্রথম আলো তোমাদের যে উপহার দিয়েছে, সেটি অমূল্য সম্পদ। ছোট্ট এই প্লাস্টিকের টুকরোটি তোমাদের আলমিরা, শোকেসে রাখলেও কর্মজীবনে এবং যখনই এটি চোখে পড়বে, তখনই প্রথম আলোর কথা মনে পড়বে। যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো, তার সঙ্গে তোমরা শিক্ষার্থীরা। তোমাদের অনুপ্রেরণায় প্রথম আলো সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে।’

অতিথির বক্তব্যে ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক খোন্দকার বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চশিক্ষায় কলেজে ভর্তি হচ্ছ। আগামীতে এইচএসসিতেও তোমাদের জিপিএ-৫ পেতে হবে। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল সরকার প্রমুখ।

অতিথিরা কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জনের হাতে মূল্যবান বই তুলে দেন।

স্থানীয় সংগঠন স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান দারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু জিপিএ-৫ পেলে হবে না, একজন দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হতে হবে। ঘরের কাজের লোক, পাড়ার অভাবী মানুষ কিংবা নিপীড়িত অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার মনোভাব প্রসারিত করতে হবে।

বক্তব্য দেন অদম্য নারী মুন্নী আক্তার। দারিদ্র্যের কশাঘাতে শিক্ষাজীবনে হার মানলেও শারীরিক কসরতের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। ২২ বছরের জীবনে অর্জন করেছেন ১০টি গোল্ড মেডেলসহ ২৪টি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মেডেল। সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় কারাতেতে যোগ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্জন করেন ব্ল্যাক বেল্ট। যে প্রতিষ্ঠান থেকে কারাতে শিখেছেন, ১০ বছরের ব্যবধানে সেখানেই এখন সহপ্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দিনমজুর বাবার সন্তান মুন্নী বলেন, ‘দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পেরে খুশি। মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল (কারাতে) শেখাতে ভবিষ্যতে নিজের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মঞ্চে এসে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে সোনাগাজী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাইমা সুলতানা ও ফেনী শাহীন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজহার মাহমুদ। কবিতা আবৃত্তি করে শিশু নিকেতন কালেক্টর স্কুলের নাদিরা আনজুম, ফেনী শাহীন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নুসরাত আহমেদ ও রামগড় বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজা আফনান। ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ গানটি খালি কণ্ঠে গেয়ে করতালি অর্জন করেন শাকিল ওয়াসিফ। নাচ পরিবেশন করেন স্টারলাইন স্প্রাউট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিরা মেহের ও হুমায়রা।

ফেনী বন্ধুসভার বন্ধুদের অংশগ্রহণে থিম সং ‘আমরা জিপিএ-৫’ নাচের সঙ্গে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে হল প্রাঙ্গণ। শেষে অতিথিরা কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জনের হাতে মূল্যবান বই তুলে দেন। সমাপনী বক্তব্য দেন ফেনী বন্ধুসভায় সাধারণ সম্পাদক লোকমান চৌধুরী।

প্রথম আলোর আয়োজনটির পাওয়ার্ড বাই কনকা-গ্রি এবং সহযোগিতা করেছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আকিজ টেলিকম লিমিটেড, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

কার্যনির্বাহী সদস্য, ফেনী বন্ধুসভা