বই, ভাবনা ও বন্ধুত্বের উষ্ণতায় যান্ত্রিক নগরে পল্লির সুর আর বইয়ের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠল দিনাজপুর বন্ধুসভার বছরের প্রথম পাঠচক্র। ২৫ জানুয়ারি বিকেলে প্রথম আলো দিনাজপুর অফিসে পল্লিকবি জসিমউদ্দীনের জীবনদর্শন ও লোকজ ঐতিহ্যের চমৎকার প্রতিভাত ঘটিয়েছেন বন্ধুরা।
নির্ধারিত বিষয় ছিল পল্লিকবি জসিমউদ্দীনের জীবনী ও কবিতা। গ্রামবাংলার জীবন, প্রেম-বিরহ, সুখ-দুঃখ ও মানবিকতার অনুপম দলিল তাঁর সাহিত্য। শুরুতে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে পাঠচক্র শুরু হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীরা পর্যায়ক্রমে কবির সৃষ্ট সাহিত্য নিয়ে নিজেদের অনুভূতি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
পাঠচক্রে উঠে আসে জসিমউদ্দীনের জীবনদর্শন, তাঁর সহজ-সরল অথচ গভীর ভাষাশৈলী এবং গ্রামবাংলার মানুষের জীবনসংগ্রামকে কবিতায় রূপ দেওয়ার অনন্য ক্ষমতা। ধুলোমাটির অমর আখ্যান জসিমউদ্দীন কেবল কবি নন, তিনি গ্রামবাংলার মৌন কান্নার এক দরদি রূপকার।
পাঠচক্রে আলোচিত ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ কিংবা ‘কবর’ কবিতাগুলো যেন কেবল পঙ্ক্তি নয়, বরং সোঁদা মাটির ঘ্রাণমাখা এক একটি জীবন্ত উপাখ্যান। কবির ভাষা নদীর মতো স্বচ্ছ, আর দর্শন আকাশের মতো বিস্তৃত। তিনি শিখিয়েছেন, মহাকাব্য রচনার জন্য রাজপ্রাসাদ নয়, গ্রামের সাধারণ উঠোনই যথেষ্ট। তাঁর সাহিত্য পাঠককে উচ্চ স্বরে কাঁদায় না, বরং হৃদয়ের গহিনে এক স্নিগ্ধ আর্দ্রতা রেখে যায়। বন্ধুদের কণ্ঠে কবির জীবনদর্শন ও লোকজ ঐতিহ্যের এই পুনর্জাগরণ পাঠচক্রকে এক শৈল্পিক পূর্ণতা দান করে।
সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায় বলেন, ‘জসিমউদ্দীন সহজ ভাষায় গ্রামবাংলার মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ ও অনুভূতি সুন্দরভাবে কবিতায় তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখা বাংলা লোকজ সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে।’
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন সিংহ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আল আবিক উৎস, বন্ধু বেলালুর রহমান, আসিফ শ্রাবণ, মারুফ হাসান, আফরিন আহমেদ, সাদেকুর নাহার, ইমজামাম হক ও মো. শামীম।
বন্ধু, দিনাজপুর বন্ধুসভা