ঝালকাঠি বন্ধুসভার পাঠচক্রে কবি নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’

পাঠচক্র শেষে ঝালকাঠি বন্ধুসভার বন্ধুরাছবি: বন্ধুসভা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর রচিত উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’ নিয়ে পাঠচক্র করেছে ঝালকাঠি বন্ধুসভা। ২৫ মে বিকেলে ঝালকাঠি মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসটি সওগাত পত্রিকায় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাস থেকে ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয়। গ্রন্থাকারে এটি ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।

বন্ধু ফারজানা ইমাম বলেন, ‘নজরুল যখন কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়কে সপরিবার বসবাস করছিলেন, তখন চারপাশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা খুব কাছ থেকে দেখেন। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই উপন্যাসটি রচিত হয়। কাহিনিতে চাঁদ সড়কের বস্তিবাসী, বিশেষ করে গাজলের মা ও তার সন্তানদের জীবনকে কেন্দ্র করে নিম্নবিত্ত মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও ক্ষুধার্ত জীবনের নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।’

বন্ধু সাব্বির রানা বলেন, ‘উপন্যাসে সাম্যবাদী চেতনা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের বেড়াজাল পেরিয়ে মানুষের মানবিক পরিচয়কে বড় করে দেখানো হয়েছে।’

ঝালকাঠি বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধু রোহান বিন নাসির বলেন, ‘চরিত্রে মেজবউ, গাজলের মা, প্যাঁকালে এবং রোমান্টিক চরিত্র অনিলের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও রূপান্তর উপন্যাসটিকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।’

অতিথি মঈন তালুকদার বলেন, ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধত্তোর এসব দুঃখ-যন্ত্রণা মানুষকে কীভাবে গ্রাস করেছিল, তা উপন্যাসটি পড়লে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আর এ সবকিছু লেখকের খেয়ালি মনের সৃষ্ট কিছু নয়, বরং তা তিনি উপন্যাসের স্বার্থে চরিত্রগুলোর পরিবর্তন ঘটিয়েছেন মাত্র।’

সভাপতি শাকিল রনি বলেন, ‘উপন্যাসে এদের অভাব অসীম, অপরিমেয়, দুঃখ-দারিদ্র্য, রোগ-শোক, ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে রাখে সর্বক্ষণ। এদের একদিকে মৃত্যু আর অন্যদিকে ক্ষুধা।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রাহাত মাঝি, প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক চাঁদনী আক্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার পাপন, বন্ধু ইসরাত জাহান, মো. মেহেদী, হৃদয় কর্মকার, প্রদীপ কর, মনিরা আক্তার, ফাহিমা আক্তার, সওদাসহ অন্য বন্ধুরা।