ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর বন্ধুসভার বন্ধুরা ৬৫টি শিশুকে ঈদের নতুন জামা, চকলেট ও বেলুন উপহার দিয়েছেন। ১০ মার্চ বেলা ১১টায় যশোর পৌরপার্ক গোল চত্বরে এগুলো বিতরণ করা হয়।
নতুন জামা পেয়ে খুশি ১০ বছর বয়সী ফাতেমা বলে, ‘অনেকেই ঈদের জামা কিনে ফেলেছে। কিন্তু আমার নতুন জামা পাইনি। আজ এখানে এসে নতুন জামা পেয়েছি। খুবই ভালো লাগছে।’
৮ বছর বয়সী এক শিশুর মা সালেহা বেগম বলেন, ‘আশপাশের বাড়িতে থাকা মেয়ের বান্ধবীরা নতুন জামা কিনলেও মেয়েকে জামা কিনে দিতে পারিনি। মেয়ে প্রায়ই ঈদের জামার জন্য আবদার করে। আপনারা মেয়ের সেই আবদার পূরণ করলেন। আপনাদের জন্য দোয়া করব।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রথম আলো জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিশুদের জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে এ আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন করা হবে।’
সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঈদের আসল আনন্দ সহমর্মিতা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। আমাদের সমাজে অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়েছেন, যাঁদের ঈদের জামা কিনতে অনেক বেগ পেতে হয়। অনেকে জামা কিনেও দিতে পারেন না। এসব মানুষের পাশে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানো উচিত, যাতে ঈদে সবার মুখে হাসি ফোটে।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও রূপালী ব্যাংকের এজিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী বছর ঈদে আমরা রঙিন পোশাকের পাশাপাশি শিশুদের নতুন জুতা উপহার দেব।’
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন লুল্টু সংগ্রহশালার লুৎফর কবির লুল্টু, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন শিরিন, ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজের অধ্যক্ষ জে এম ইকবাল হোসেন, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌস, অর্থ সম্পাদক বাবুল হোসেন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ইমন হাসান, দপ্তর সম্পাদক নুরুন্নবী হৃদয়, বন্ধু আমিনুল ইসলাম, ধীমান আল হামি, জাহানারা জ্যোতিসহ অন্য বন্ধুরা।
যশোর বন্ধুসভার সভাপতি লাকি রানী কাপুরিয়া বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর “সহমর্মিতার ঈদ” কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের নতুন জামা উপহার দিয়ে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৬৫টি শিশুকে নতুন জামা দিয়েছি।’
সাধারণ সম্পাদক, যশোর বন্ধুসভা