মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের সংগ্রাম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’–এ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথিরা
ছবি: বন্ধুসভা

তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তেন্দ্রচন্দ্র দাস। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের সংগ্রাম।

৩০ মার্চ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তেন্দ্রচন্দ্র দাস। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন নিজের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেন এবং সেই সময়ের ত্যাগ ও সাহসিকতার গল্প তুলে ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা
ছবি: বন্ধুসভা

‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের শ্রেণিকক্ষে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে বাকৃবি বন্ধুসভা। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহীদুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার, যার কারণে আমরা আজ স্বাধীন। বাঙালি জাতিকে দমিয়ে রাখার জন্য তাদের ওপর নানা জুলুম ও নির্যাতন করা হয়। এরপরও বাংলার দামাল ছেলেদের দমিয়ে রাখতে পারেনি পাকিস্তানি বাহিনী।

‘আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়ে তাঁদের জীবন কেড়ে নেয় হানাদাররা। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ, ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীন বাংলা। এই ধরনের অলিম্পিয়াড আমাদের সেই ইতিহাসকে তরুণদের সামনে তুলে ধরে। বন্ধুসভার এই আয়োজনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালো করে জানবে এবং অন্তরে স্বাধীনতার চেতনা লালন করবে, এই আশা রাখছি।’

‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’–এ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা
ছবি: বন্ধুসভা

কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। আমার নিজের গ্রামে ১১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং আমার পরিবারে মোট ৪ জন বীর উত্তম ও বীর বিক্রম আছেন। তাঁদের কঠোর সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ—এ কথা মনে রাখতে হবে। দেশের যেকোনো সংকটে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে বসবাসযোগ্য করে রেখে যেতে হবে।’

এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। কুইজে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা ও তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাকৃবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তাসনিম সিদ্দিকা। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন সভাপতি লিখন ইসলাম।

সভাপতি, বাকৃবি বন্ধুসভা