গোবিপ্রবি বন্ধুসভার এবারের পাঠচক্রে সাহিত্য পাঠের পাশাপাশি উঠে এসেছে ধর্ম, দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি, জীবন ও সমাজের নানা প্রসঙ্গ। ১৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই পাঠের আসর বসে।
পাঠচক্রের শুরু হয় কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। স্বরচিত কবিতা ‘যতটুকু রঙিন’ আবৃত্তি করেন বন্ধু গালিবা সোয়ারা। কবিতাটিতে উঠে আসে প্রতিদিনের জীবন থেকে শেখার বিষয় এবং শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে কতটুকু কাজে লাগানো হয়, সেই প্রশ্ন। জীবনের কোনো কোনো সময় মলিনতা আসতেই পারে, তবে সেই মলিনতা যেন পুরো জীবনকে ঢেকে না ফেলে—এমন একটি বার্তাও ফুটে ওঠে কবিতায়। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা জীবনের রংগুলোর মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় রংটুকু খুঁজে নিয়ে জীবনকে যতটুকু সম্ভব রঙিন করে তোলার কথাই যেন এটি মনে করিয়ে দেয়।
উমেরা আহমেদের ‘পীর-এ-কামিল’ উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধু শাফিল। আলোচনায় উঠে আসে উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইমামা হাশিম ও সালারকে ঘিরে নানা ঘটনা। ইমামা একজন মেয়ে, অন্যদিকে সালার একজন ছেলে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবনদর্শনের পরিবর্তন কীভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। ইমামার ধর্মীয় রূপান্তরকে কেন্দ্র করে তার পরিবারে তৈরি হওয়া নানা সমস্যার কথাও আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে সালারের চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানসিক সংকট, মেধা, একাডেমিক সাফল্য এবং জীবনের নানা টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
পরবর্তী সময়ে জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও মৃত্যুভয়ের মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে সালারের চিন্তা ও বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে। ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রভাবে তার জীবন নতুন দিকে মোড় নেয় এবং সে হজ পালন করে। আলোচনায় আরও আসে ডক্টর ফুরকানের পরিচয় এবং আমনা নামের এক বৃদ্ধা নারীর মেয়ের প্রসঙ্গ। আমনার জীবনের পারিবারিক সংকট ও বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও প্রাধান্য পায়।
এরপর নিজের স্বরচিত কবিতা ‘গৃহযুদ্ধ’ আবৃত্তি করেন বন্ধু দিগন্ত বিশ্বাস। তাঁর কবিতাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে আসে গৃহযুদ্ধের ধারণা। গৃহযুদ্ধ বলতে শুধু একটি দেশের দুটি পক্ষের মধ্যকার সংঘাতকে বোঝায় না; মানুষের নিজের ভেতরেও নানা মত, আদর্শ ও দর্শনের সংঘাত তৈরি হতে পারে। আলোচনায় খাদ্যসংকট, অর্থনীতি, দর্শন ও আদর্শের দ্বন্দ্বও গুরুত্ব পায়।
দিগন্ত বিশ্বাস বলেন, ‘ধ্বংস দেখেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই; অনেক সময় ধ্বংসের মধ্য থেকেই নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়।’
সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শেখ ‘সেইজ দ্য ডে’ ধারণাটি সামনে আনেন। বর্তমান সময়কে গুরুত্ব দেওয়া, সময়কে কাজে লাগানো এবং সুযোগকে অবহেলা না করার বিষয়টি এর মাধ্যমে উঠে আসে।
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা