যে জাতি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানে না, সে জাতি নিজেই তাঁর গৌরবকে নষ্ট করে ফেলছে বলে মনে করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। তোমরা তোমাদের মেধা দিয়ে দেশকে নতুনভাবে সাজাবে এবং একদিন তোমরাই নেতৃত্ব দেবে।’
৩১ মার্চ রাজবাড়ীতে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান। প্রথম আলো ও বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম আলোর প্রতিটি কাজ প্রশংসনীয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন ও ধারণ করে বলেই স্বাধীনতার মাসে এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।’ এ সময় তিনি মুক্তযুদ্ধকালীন রাজবাড়ীর দাদশী বাজারের স্মৃতিবহুল ঘটনা স্মরণ করেন।
‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজ মিলনায়তনে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ বন্ধুসভা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা ছাড়াও আয়োজনে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের শেখ বলেন, ‘৫৫ বছর আগে টগবগে যুবকেরা নিজের সংসার, পরিবারের কথা না ভেবে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। কীভাবে দেশকে ভালো রাখা যায়, বিদেশি শাসকদের বিরুদ্ধে দেশকে মুক্ত করা যায়, সেই চিন্তা থেকে তাঁরা নিজের জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও মা-বোনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা সময় পেলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিশবে এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অবগত হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে তোমাদের সামনে এগোতে হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, ‘বন্ধুসভা প্রায় ২৫ বছর ধরে অনেক ভালো ভালো কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আগামীতে আরও বড় পরিসরে করার অনুরোধ রাখব।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি বেশি বেশি বই পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে। বাংলাদেশের জন্ম, জন্মের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। এ ধরনের ভালো ভালো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি অম্বরেশ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, প্রথম আলো রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সফিক মণ্ডল।
উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী বন্ধুসভার সহসভাপতি হেলাল মাহমুদ, সদস্য মইনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রিপন মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ কলেজটির শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের পরীক্ষা শেষে উত্তররপত্র মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব ফকির, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী, তৃতীয় ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তরুণ মোল্লা, চতুর্থ হয়েছে যৌথভাবে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজা রাব্বী এবং সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলমা খাতুন।