আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রবন্ধ ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ৩০ জানুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বন্ধুরা প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য, মধ্যবিত্ত সংস্কৃতির সংকট এবং শ্রমজীবী মানুষের সংস্কৃতির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন বলেন, ‘অপসংস্কৃতির অপঘাতে দেশের সংস্কৃতি যখন বিপর্যস্ত, তখন আমরা আমাদের সংস্কৃতির ব্যাপারে দ্বিধান্বিত। আমরা আদৌ জানি না আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি কী, তার একটি সামষ্টিক চিত্র মানসপটে অনুপস্থিত। দেশের নিম্নবিত্ত জনসংখ্যার সংস্কৃতির সঙ্গে মধ্যবিত্তের সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়া ব্যতীত একটি পূর্ণাঙ্গ দেশীয় সংস্কৃতির উত্থান, যা দেশের সব মানুষকে একই সুতায় গাঁথবে, তা অসম্ভব।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে সংযোগহীন নাগরিক সংস্কৃতির অন্তঃসারশূন্যতাকেই ইলিয়াস “সংস্কৃতির ভাঙা সেতু” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই সেতুর সংযোগ ঘটাতে হলে আমাদের কৃষক, জেলে, মাঝির সংস্কৃতির দিকে তাকাতে হবে। তারাই এই ভূমির ভূমিপুত্র।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার বলেন, ‘বর্তমান সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পচর্চার অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণশক্তির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। কারণ, এসব সৃষ্টিকর্ম সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।’
বইমেলা সম্পাদক ত্বা সীন জামান বলেন, ‘লেখক সমাজে সংস্কৃতির পরিবর্তন ও তার সংকটের গভীরতা তুলে ধরতে চেয়েছেন। যেখানে একদিকে সমাজের প্রতিটি শ্রেণির সঙ্গে অপর শ্রেণির দূরত্ব; অন্যদিকে এই দূরত্বের ফলে সৃষ্ট সংস্কৃতির ফাটলের কারণে অপসংস্কৃতির প্রসার ঘটেছে।’
সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই ভাঙা সম্পর্ক আবার গড়ে তুলতে হবে।’