বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে তা রক্ষা করতে হবে
‘এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে তা রক্ষা করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। বেশি বেশি মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে হবে।’
৩০ মার্চ ঝালকাঠিতে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রফেসর মো. ইলিয়াস ব্যাপারী। ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের কলা ভবনের অডিটোরিয়ামে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে ঝালকাঠি বন্ধুসভা।
প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আনু। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা কোনো কিছু পাওয়ার আশা করে যুদ্ধ করেননি। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন।’ তিনি ঝালকাঠি জেলার তিনটি স্থানের মা-বোন ও মুক্তিযোদ্ধাদের একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন নির্যাতনের কথা বলে অঝোরে কেঁদে দেন। তাঁর কান্না দেখে পুরো হলরুমের শিক্ষার্থীরা চুপ হয়ে যান এবং মনোযোগ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাসের কথাগুলো শোনেন।
বন্ধুসভার উপদেষ্টা আইনজীবী সাকিনা আলম লিজা বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক করা যাবে না। কারণ, আজকের এই তরুণেরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রশান্ত দাস হরি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ নামের এ দেশ আমরা পেতাম না। আমরা পরাধীন থাকতাম, দেশীয় সংস্কৃতিচর্চা বাধাগ্রস্ত হতো। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে এ দেশের মানুষ বঞ্চিত হতো।’ তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। সংস্কৃতি ও দেশের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশকে ভালোবাসতে হবে।
ঝালকাঠি বন্ধুসভার সভাপতি শাকিল হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত মাঝির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড কুইজ প্রতিযোগিতায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা ও তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রথম হয়েছে খাদিজা আক্তার, দ্বিতীয় তিথী পাল, তৃতীয় জাইমা খানম, চতুর্থ সানজিদা ইসলাম ও পঞ্চম হয়েছে উম্মে সালমা।
আয়োজনটি সফল করতে কাজ করেছেন বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক রোহান বিন নাসির, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তহমিনা আক্তার, প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সোহান খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক জান্নাতুল ইয়াসমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার পাপনসহ বন্ধুসভার অন্য সদস্যরা।