এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হলো সংবর্ধনা উৎসব। শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর উদ্যোগে এটির আয়োজনে সহযোগিতা করেছে লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভা। ২৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। তার আগেই মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয় শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও উপহার।
শুধু আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও শেখার সুযোগ তৈরি করতে রাখা হয় বিভিন্ন ধরনের গেমস। খেলায় অংশ নিয়ে তারা জিতে নেয় বিজ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন এবং শিক্ষাসামগ্রী। ছিল আইসক্রিমও। পুরো আয়োজনজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
‘কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে কেটেছে দিন’—শিক্ষার্থী নুজহাতি নূর
আনন্দের এই আয়োজনের মধ্যেও উঠে আসে কঠিন বাস্তবতার গল্প। নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে অনুপ্রাণিত করে দালাল বাজার ফাতেমা গার্লস হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী নুজহাতি নুর। জানায়, ২০১৫ সালে তার বাবা মারা যান। তখন সে প্রাক্-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। বাবাকে হারিয়ে ছোট বোন ও তাকে নিয়ে মা দিশাহারা হয়ে পড়েন। এরপর অভাব-অনটনের মধ্যেই দিন কেটেছে। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে চলতে হয়েছে।
সংগ্রামের সেই পথ পেরিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন তার কাছে শুধু একটি ফলাফল নয়, এটি কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার অর্জন।
শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তারা তাঁদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষাজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং স্বপ্নপূরণের পথে পরিশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কীভাবে একজন শিক্ষার্থী নিজের লক্ষ্য ঠিক করে ধীরে ধীরে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে দেওয়া হয় নানা পরামর্শ।
অনুপ্রেরণার মঞ্চে গুণীজন
কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিতে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাসিবুল ছিদ্দিক, লক্ষ্মীপুর কলেজিয়েট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা খাতুন এবং প্রথম আলোর হেড অব ফাস্ট রিপোর্টিং টিপু সুলতান।
বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, জিপিএ-৫ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই শেষ গন্তব্য নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে জ্ঞান, মানবিকতা, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় শিক্ষার্থীদের।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার বন্ধু মোহাম্মদ সেলিম মুন্সি। লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের স্বেচ্ছাশ্রম, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় আয়োজনের নানা কাজ। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম, সহসভাপতি ইসমাইল খান ও সংকর চন্দ্র দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ হোসাইন, বন্ধু মো. নাহিদ, আল-আমিন খান, মিরাজ হোসেন, হুমাইরা চৌধুরী, মো. রাসেল, সাইফ মোহাম্মদ আলী, স্বর্ণা দেবনাথ, শান্তন চন্দ্র দাস, রিয়াদ হোসেনসহ অনেকে।