গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সহযোগিতায় ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০০টি গাছ রোপণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদামতলার সামনে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের নিরিখে পরিবেশের সুরক্ষায় অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বনাঞ্চলের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম। এই ঘাটতি পূরণে আমাদের আশপাশে প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে, যা কাঠ, ফল ও বনজ সম্পদেরও অভাব পূরণ করবে। পরিবেশ রক্ষায় বন্ধুসভার এমন পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম প্রশংসনীয়।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা অধ্যাপক নিলয় কুমার দে বলেন, বৃক্ষ মানবজীবনের অন্যতম প্রধান সহায়ক। এটি শুধু অক্সিজেন সরবরাহ করে না; বরং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মসূচির বিষয়ে গবি বন্ধুসভার সদস্যসচিব রাজিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা সব সময় ভালো কাজের মধ্য দিয়ে ভালো বন্ধু হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কাজগুলোর একটি হলো পরিবেশকে রক্ষা করা। ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হলো বেশি করে গাছ লাগানো।’
‘এই কর্মসূচি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করব না, এগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকিও করব,’ যোগ করেন তিনি।
এদিন গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আম, রেইন্ট্রি, নিম ও মেহগনি প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবি ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ, বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।