কাতারে শ্রমজীবী রাইডারদের মধ্যে বন্ধুসভার ঠান্ডা পানীয় ও খাবার বিতরণ

কাতারের আল নাসর এলাকায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ফুড ডেলিভারি রাইডারদের মধ্যে কাতার বন্ধুসভার উদ্যোগে ঠান্ডা পানীয় ও খাবার বিতরণছবি: বন্ধুসভা

কাতারে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এমন অসহনীয় গরমেও থেমে নেই জীবিকার তাগিদে মানুষের পথচলা। বিশেষ করে ফুড ডেলিভারি রাইডাররা—যাঁরা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঘরে ঘরে সময়মতো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন—এই তপ্ত আবহাওয়ার অন্যতম ভুক্তভোগী।

এই শ্রমজীবী রাইডারদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এগিয়ে এসেছে কাতার বন্ধুসভা। ১০ জুলাই বিকেলে কাতারের আল নাসর এলাকায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ফুড ডেলিভারি রাইডারদের মধ্যে ঠান্ডা পানীয় ও খাবার বিতরণ করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

কাতারের আল নাসর এলাকায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ফুড ডেলিভারি রাইডারদের মধ্যে কাতার বন্ধুসভার উদ্যোগে ঠান্ডা পানীয় ও খাবার বিতরণ।

এদিন প্রায় ২০০ রাইডারের হাতে পানি, ফলের রস ও খাবার তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা ক্লান্ত রাইডাররা এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল কৃতজ্ঞতার ছাপ। এই ছোট্ট আয়োজন যেন তপ্ত দিনের ভেতর একমুহূর্তের প্রশান্তি হয়ে আসে।

বন্ধুসভার কার্যক্রমে সহায়তা করেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভিআইপি মডার্ন ফার্নিচার। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুমন বাবু বলেন, ‘মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাতার বন্ধুসভার এমন সামাজিক উদ্যোগে পাশে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা করেছে স্থানীয় মিরাস ডেলিভারি কোম্পানি।

সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাতার বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা এগিয়ে এসেছেন বলেই এমন সুন্দর একটি মানবিক আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।’

কাতার বন্ধুসভার বন্ধুরা।

সভাপতি শাকিল আহমদের নেতৃত্বে এ কার্যক্রমে অংশ নেন সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্য রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জিহাদ, অর্থ সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক নাহিদ ইসলাম, বইমেলা সম্পাদক শরিফ হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ জনি প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা তামীম রায়হান ও বুরহান উদ্দীন।

কর্মসূচি শেষে সভাপতি শাকিল আহমদ বলেন, ‘তপ্ত মরুর দেশ কাতারে গ্রীষ্মকালীন এমন আয়োজন শুধু পানি বা খাবার বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আমাদের সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রকাশ। যা আমাদের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা চর্চায় অনুপ্রেরণা জোগায়।’ ভবিষ্যতেও এমন যেকোনো আয়োজনে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।