দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জামালপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ মে বিকেলে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে এটির আয়োজন করে জামালপুর বন্ধুসভা।
প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে বিকেল চারটা বাজার আগেই ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হন বন্ধুসভার সদস্য, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকসমাজ। মূল ব্যানারে স্লোগান ছিল—‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই; ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সভাপতি অন্তরা চৌধুরী বলেন, ‘একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও সভ্য সমাজে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা যদি আজ আমাদের সন্তান ও মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারি, তবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে পড়বে। আমাদের স্পষ্ট দাবি—অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের প্রবণতা চিরতরে বন্ধ হয়।’
সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সহিংসতা ও অপরাধের বিরুদ্ধে শুধু কাগজে-কলমে কঠোর আইন থাকলেই হবে না, তার সঠিক, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। বিচারপ্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, সমাজে অপরাধীদের মনে তত বেশি আইনের প্রতি ভয় তৈরি হবে। আমরা এমন একটি নিরাপদ সমাজ চাই, যেখানে কোনো শিশু বা নারী ভয়ের পরিবেশে নয়, বরং পূর্ণ স্বাধীনতা ও সম্মান নিয়ে বড় হবে।’
সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মিয়া বলেন, ‘সামাজিক এই অবক্ষয় ও মানসিক ব্যাধি রুখতে তরুণ সমাজকে সবার আগে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেবল রাজপথে প্রতিবাদ করাই শেষ কথা নয়, আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারে যদি আমরা নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে পারি, তবেই এ ধরনের অপরাধ সমাজ থেকে চিরতরে দূর করা সম্ভব।’
কার্যনির্বাহী সদস্য মো. বায়েজিদ বলেন, ‘যেকোনো ধরনের অপরাধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদের সমাজকে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে। অপরাধীর কোনো দলীয় বা ভিন্ন পরিচয় নেই; তার একটাই পরিচয়—সে একজন অপরাধী। এই মানসিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের নাগরিকের সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এখনই।’
বন্ধু পলি বিনতে নাছির বলেন, ‘আজকে সমাজে যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে প্রতিটি কন্যাশিশু নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখতে পারবে এবং প্রতিটি নারী তার আত্মমর্যাদা নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবে।’
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন উপদেষ্টা সিফাত আবদুল্লাহ ও নাজমুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ্, দপ্তর সম্পাদক নাহিদুল হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রত্যাশা পাল, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক জোবাইর আহম্মদ, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত, ম্যাগাজিন সম্পাদক সিয়াম আহম্মেদ, বইমেলা সম্পাদক নাইমুল শাকিল, বন্ধু রওশন বিপ্লবী, শাখাওয়াত হোসেন, মাসুদ, রতন আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, তানভীর হাসান, অপ্সরা পাল, রুমি আক্তার ও নুর আমিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সহসাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা