পরিবারেই শুরু হোক পরিবর্তন

জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যশোর বন্ধুসভার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাছবি: বন্ধুসভা

‘দুই প্রজন্মের শৈশবের ইতিবাচক দিকগুলো চিহ্নিত করে তার ব্যবহার পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। পরিবারে এক টেবিলে সবাই মিলে খেতে বসা, কিছু সময় মোবাইল রেখে নিজেদের গল্পে ব্যস্ত রাখা, আবার নিয়মিত খেলাধুলা ও প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে জীবনমানকে সমৃদ্ধ করা যায়।’

জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যশোর বন্ধুসভার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কথাগুলো বলেন যশোর জজকোর্টের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধুসভার বন্ধুসহ মোট ৫০ জনের উপস্থিতিতে ডা. আবদুল রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই কর্মশালা।

জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যশোর বন্ধুসভার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

‘তরুণ ও প্রবীণদের সম্পর্ক উন্নয়নে কৌশলপত্র নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন’ প্রতিপাদ্যে কর্মশালার উদ্বোধন করেন ডা. আবদুল রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জে এম ইকবাল হোসেন। এ ছাড়া অতিথি হিসেবে ছিলেন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: শাহ্জাহান কবীর প্রমুখ।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের শৈশব স্মৃতিচারণা এবং বর্তমান সময়ের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার, সামাজিক ও মানবিক গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ৩০ অনূর্ধ্ব ও ৩৫ ঊর্ধ্ব—মোট দুই ধরনের বয়সের ওপর কৌশলপত্র নির্ধারণ করা হয় এতে; যেখানে তাঁদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দলীয় কাজ দেন প্রশিক্ষকেরা। প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে যেসব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেসব জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি তুলে ধরা হবে, যেন তা রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর করা হয়।

জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যশোর বন্ধুসভার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

কর্মশালার প্রশিক্ষক ও যশোর মৌমাছি স্কুলের পরিচালক এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘শৈশবের সোনালি মুহূর্তগুলোকে আরও রাঙিয়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম; যেখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা। যেমন ভ্রমণ করা, মজার ছলে শিক্ষামূলক ও ঐতিহাসিক গল্পের মাধ্যমে মানসিক বিকাশকে আরও শাণিত করা ইত্যাদি।’

শেষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়বস্তু ছিল ‘ধুলি মাখা মাঠের আড্ডা ও ফেসবুক চ্যাটিংয়ে আড্ডা’র পক্ষে-বিপক্ষে। পরিচালক হিসেবে ছিলেন প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। তাঁর তীক্ষ্ণ বিচার–বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে দুই পক্ষই চমৎকার যুক্তি–তর্ক দিয়ে আলোচনা করেছে, যুক্তি খণ্ডনের চেষ্টা করেছে। এ জন্য দুই পক্ষকেই যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। সেরা বক্তা হয়েছেন পক্ষ দলের দিপান্বীতা সিংহ রায়। পক্ষ-বিপক্ষ দলের ছয়জন ও সেরা বক্তা হিসেবে একজনসহ মোট সাতজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সভাপতি লাকি রানী কাপুড়িয়ার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী কর্মশালা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার বন্ধু নুরুন্নবী।

ম্যাগাজিন সম্পাদক, যশোর বন্ধুসভা