বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি কামিনী রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পাঠচক্রের আসর করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল চত্বরে এই আসর বসে।
পাঠচক্রে কামিনী রায়ের জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর বিখ্যাত ‘সুখ’ কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধুরা। বিশেষভাবে ‘সুখ’ কবিতায় মানুষের প্রকৃত সুখ, পরোপকার ও আত্মত্যাগের যে দর্শন তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলেন অংশগ্রহণকারীরা। কবিতার পাশাপাশি কামিনী রায়ের নারীজাগরণ, সমাজসচেতনতা ও মানবতাবাদী চিন্তার বিভিন্ন দিকও আলোচনায় উঠে আসে।
প্রচার সম্পাদক মো. ইসনাইন বলেন, ‘“সুখ” কবিতায় কামিনী রায় খুব সহজভাবে বুঝিয়েছেন, নিজের জন্য পাওয়া সুখের চেয়ে অন্যের উপকার করতে পারার আনন্দ অনেক গভীর।’
অর্থ সম্পাদক ফারজানা আক্তার বলেন, ‘কামিনী রায়ের লেখার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তাঁর কবিতা শুধু পড়ার জন্য নয়, নিজের জীবন ও সমাজকে নতুন করে ভাবার সুযোগও দেয়।’
কামিনী রায়ের সাহিত্য নিয়ে পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হাসান করিম বলেন, ‘তাঁর লেখায় মানুষের প্রতি মমতা, নৈতিকতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। “সুখ” কবিতাটিও আমাদের অন্যের জন্য ভাবতে শেখায়।’
সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘একজন লেখককে শুধু লেখা দিয়ে নয়, সময় ও সমাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দিয়েও বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কামিনী রায়ের সাহিত্য পড়লে তাঁর সময়ের সমাজচিন্তা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘পাঠচক্রের মাধ্যমে আমরা শুধু বই পড়তে চাই না, পড়া বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে চাই।’
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা