জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বাস্তুহারা পরিবারের শিশুদের মুখে ঈদের হাসি ফুটিয়েছে কক্সবাজার বন্ধুসভা। জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের আহ্বানে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯ মার্চ বিকেলে সুবিধাবঞ্চিত ৪৭ শিশুকে নতুন জামা উপহার দেন বন্ধুরা।
সাগরের বালিয়াড়িতে ঝাউবাগানের নিচে গড়ে ওঠা ৩০-৩৫টি ঝুপড়িতে বসবাস করা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে। অনেক শিশু ঈদের দিন নতুন জামা পরার স্বপ্ন দেখতে সাহস পায় না। এমন বাস্তবতায় হঠাৎ করেই নতুন জামা পাওয়ায় তাদের আনন্দ যেন বাধ মানেনি।
১৩ বছর বয়সী আরমিনা আবেগঘন কণ্ঠে বলে, ‘ঈদ আসলে আনন্দ লাগে, কিন্তু আমরা তো গরিব। অন্যদের মতো সবকিছু কি আর পাই? যা আছে, তা দিয়েই ঈদ করি। এবার আপনাদের দেওয়া নতুন জামা গায়ে দিয়েই ঈদ করব।’ তার চোখেমুখে তখন আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল অশ্রুর ঝিলিক।
ঝুপড়ির বাসিন্দা রহিমা (৫৫) বলেন, ‘সকাল পর্যন্ত ভাবছিলাম পুরান জামাতেই ছেলেমেয়েদের ঈদ করতে হবে। আমরা দিন এনে দিন খাই, নতুন জামা তো স্বপ্নের মতো। যখন আপনারা নাম আর বয়স নিতে এলেন, তখন মনে হয়েছে, আল্লাহ আমাদের দিকে তাকিয়েছেন।’
সারা খাতুন (৪৩) বলেন, ‘মানুষেরা আমাদের রোহিঙ্গা বলে অপমান করে। সাহায্য করতে চায় না। আমরা বাস্তুহারা, তাই যা শুনতে হয়, সহ্য করি। কিন্তু আপনাদের এই উদ্যোগ আমাদের সন্তানদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে।’
এ সময় কক্সবাজার বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল নবী বলেন, ‘এটা কোনো দান নয়, আমরা আমাদের ঈদের শপিংয়ের টাকা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি।’
সাধারণ সম্পাদক উলফাতুল মোস্তফা বলেন, ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগ সারা বাংলাদেশে করে থাকে প্রথম আলো বন্ধুসভা। আমরা চাই, আপনারাও আমাদের মতো ঈদ উদযাপন করুন।’
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারগোব মূর্শেদ, অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক নাদিয়া আক্তার, কার্যনর্বিাহী সদস্য উম্মে সামিরা প্রমুখ।