একটি উইল বা সম্পত্তির বাইরে ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ যে বার্তা দেয়

দিনাজপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে দিনাজপুর বন্ধুসভা। ২৯ আগস্ট বিকেলে প্রথম আলো দিনাজপুর অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস। সম্পত্তির লোভ, প্রতারণা, নৈতিকতার দ্বন্দ্ব ও মানুষের চারিত্রিক দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এটির কাহিনি। উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে গোবিন্দলাল, ভ্রমর, রোহিণী ও কৃষ্ণকান্ত। একটি উইলকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে গল্পের নানা জটিলতা তৈরি হয়।

সভাপতি শবনম মুস্তারিন ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এর মূল কাহিনি ও চরিত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এ উপন্যাস শুধু একটি উইল বা সম্পত্তির গল্প নয়। এর মধ্যে মানুষের লোভ, আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, কর্তব্যবোধ ও নৈতিকতার সংঘাত অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে গোবিন্দলালের চরিত্রের পরিবর্তন আমাদের ভাবিয়ে তোলে।’

দিনাজপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।

শবনম মুস্তারিন বলেন, রোহিণী ও ভ্রমর—দুই চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক নারীর ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতা ও অবস্থান তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে গোবিন্দলালের সিদ্ধান্তগুলো দেখায়, মানুষের সাময়িক দুর্বলতা কীভাবে তার জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বইটিতে গোবিন্দলালের পরনারীর প্রতি আসক্তি ফুটে উঠেছে। গোবিন্দলাল ও ভ্রমরের সম্পর্কে ভালোবাসা থাকলেও রোহিণীর আগমনে সে সম্পর্কে তৈরি হয় টানাপোড়েন। মানুষের মন কতটা সহজেই আবেগের কাছে পরাজিত হতে পারে, বঙ্কিমচন্দ্র সেটিই অত্যন্ত গভীরভাবে তুলে ধরেছেন।

পাঠচক্র শেষে বন্ধুরা বইটির শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন। সবার আলোচনায় উঠে আসে—মানুষের জীবনে ভালোবাসা ও সম্পদের চেয়ে নৈতিকতা, বিশ্বাস ও সঠিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অনেক বেশি।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায়সহ অন্য বন্ধুরা।

বন্ধু, দিনাজপুর বন্ধুসভা