রমজান মাস এলেই অনেক পরিবারের চোখে নির্ঘুমতা বেড়ে যায়। একটু ভালো খাবার আর নতুন পোশাকের আশায় এই পরিবারের শিশুরা মা-বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায় অনেক সময় সেই স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায়।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে উপদেষ্টা, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচি করেছে পটিয়া বন্ধুসভা। ৮ মার্চ পটিয়া ক্লাব চত্বরে প্রথম ধাপে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত শিশুদের ঈদের নতুন জামা উপহার ও শ্রমজীবীদের মধ্যে ঈদ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিতরণের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বন্ধু প্রান্ত বড়ুয়া চৌধুরী শিশুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের কথা তুলে ধরে বলেন, এই ছোট ছোট মুখের হাসিই এমন উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
কলেজ প্রভাষক এরশাদ হোসেন বলেন, পটিয়া বন্ধুসভা চমৎকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে তারা সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচিতে সেরা দশের পুরস্কারও অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সাধারণ সম্পাদক মোকারেম আলী বলেন, এই মানবিক কাজের ধারাবাহিকতা পটিয়া বন্ধুসভা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।
সভাপতি আইরিন সুলতানা বলেন, সহমর্মিতার ঈদের খুশি সারা বাংলাদেশের বন্ধুসভার বন্ধুরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পটিয়া বন্ধুসভাও সেই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আনন্দিত।
সন্তান নতুন জামা উপহার পাওয়ায় এক শিশুর অভিভাবক মরিয়ম বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আর মেয়ে ফোয়া এই সুন্দর ফ্রগ ইবে দি ঈদ গরিবুদে। আরত্তুন বেশি খুশি লার।’
আরেক অভিভাবক আবদুল করিম কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘পটিয়া বন্ধুসভা প্রতিবছর আমার দুই মেয়েকে কাপড় দেয়। এগুলো দিয়েই তারা ঈদ করে। এই কাপড়গুলা খুব দামি আর ভালো মানের হয়। আমি ডায়ালাইসিস করি, তাই তাদের ভালো কাপড় কিনে দিতে পারি না।’
শেষে পটিয়া বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবদুর রাজ্জাক ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করা সব শুভাকাঙ্ক্ষীকে ধন্যবাদ এবং উপস্থিত শিশুদের আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
এরপর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে বন্ধুসভার কয়েকজন সদস্য পটিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে অসহায়, প্রতিবন্ধী ও অঙ্গহীন মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। দুই পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে বসা মুন্না নামের এক ব্যক্তি খুশি হয়ে বলেন, ‘বেয়াগ্গুনে অল্প কিছু টিয়া ভিক্ষা দেয়, কিন্তু এত কিছু খাবারসামগ্রী কেউ আনি ন দে। অনরারে আঁই ধন্যবাদ দির।’
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফারুক আহমেদ, সূফি মোহাম্মদ রেজা, তানাস চৌধুরী, মাহবুবা সামিয়া, আবু নয়ন, আবদুল মুহি, সাইদ হোসেন, নাঈমা আকতার, রাশেদুল্লাহ আলমদার, খায়রুল মোস্তফা, জাহেদুল রেজবি, হুমাইরা জান্নাত, মিফতাহুল জান্নাত, পার্থ প্রতিম দাশ, মুন শীলসহ আরও অনেকে।
সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা