‘কুটু মিয়া’ ভয়ংকর এক অন্ধকার ভুবনের গল্প। চেতনার অতল গহব্বরে জন্মানো আতঙ্কের গল্প। যে আতঙ্ক আমরা গোপনে লালন করি কিন্তু মুখোমুখি হই না। ফ্ল্যাপের এই শেষ অংশটুকুতে কী যেন ছিল। আর এই কী যেন জানতেই ‘কুটু মিয়া’ পড়ার আগ্রহ জন্মাবে।
কুটু মিয়া অতিপ্রাকৃত ভৌতিক ঘরানার লেখনী হলেও ভৌতিক ব্যাপারটাই শুধু এখানে মুখ্য নয়। থ্রিলার ঘরানার বলা চলে। কুটু মিয়া একটি প্রতীকী চরিত্র। চমৎকার রাঁধুনি কুটু মিয়া ওই সব মানুষদেরই বশ করে ফেলে, যারা কুপ্রবৃত্তিগুলো সায় দেয় এবং ইন্দ্রিয় সুখভোগকে জীবনের কেন্দ্র করে তোলে। ইন্দ্রিয়কে করায়ত্ত করে ফেলতে ওস্তাদ কুটু মিয়া। তারপর একসময় সেই মানুষগুলোর চামড়ায় পোকা পচন ধরে, যা হয়তো নির্দেশ করে মনুষ্যত্বের পচনকে। এই চমৎকার রহস্যঘেরা বইটি নিয়েই ২১ জুলাই রাত ৯টায় অনলাইনে পাঠের আসর বসায় ভৈরব বন্ধুসভা। হুমায়ূন আহমেদের ১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ভৈরবসভার বিশেষ পাঠচক্র ‘কুটু মিয়া’।
সঞ্চালনা করেন পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক জান্নাতুল মিশু। উপন্যাসটির মূল আলোচনায় যুক্ত হন অর্থ সম্পাদক নাফিস রহমান ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরতী পাল। শুরুতেই হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে আলোচনা করেন সাধারণ সম্পাদক রিফাত হোসেন।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর ধরে ভৈরব বন্ধুসভার এই ধারাবাহিক কার্যক্রম পাঠচক্র চলমান। এই সময়টায় পার হতে হয়েছে নানা ঘাত-প্রতিঘাত। তারপরও এই চর্চা থেকে বিচ্যুত হয়নি ভৈরব বন্ধুসভা। মুদ্রিত বই পড়ার ১৫৭তম আসর হলো এই পাঠচক্রের মাধ্যমে। এ পাঠচক্রটি নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে হলেও আমাদের বন্ধুরা হুমায়ূন আহমেদের বেশ কয়েকটি বই পড়েছে। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা ১৫ থেকে ২০টি বিষয় আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতা–পরবর্তী বাংলাদেশি লেখকদের মধ্যে অন্যতম এই লেখককে আমরা স্মরণ করি শ্রদ্ধাভরে।’
আরতী পাল বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের লেখা বেশ কয়েকটি বই পড়েছি। স্যারের লেখনশৈলী বরাবরই খুব ভালো লাগে। এবার পাঠচক্রের বিষয় কুটু মিয়া বইটি বেশ রহস্যময় ছিল। প্রথম দিক থেকেই রহস্যের ছোঁয়া বোঝা যাচ্ছিল। তাই খুব আগ্রহ নিয়েই গল্পটা পড়েছিলাম। তবে গল্পটা শেষ করেও যেন শেষ হলো না। বেশ কিছু প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এখনো।’ নাফিস রহমান বলেন, ‘বইটি পড়ে নানাবিধ চিন্তায় মগ্ন হয়েছি। কুটু মিয়া চরিত্রটি গল্পের শেষেও রহস্যের ছাপ রেখে গিয়েছে।’
সভাপতি নাহিদ হোসাইনের সমাপনী বক্তব্যে শেষ হয় পাঠচক্র। তিনি বলেন, ‘ভৈরব বন্ধুসভা ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পছন্দ করে। মুদ্রিত বই পড়ার দলগত আসরটি এবার আমরা সম্পন্ন করেছি অনলাইনে, যাতে দূরের বন্ধুরাও আলোচনায় অংশ নিতে পারে।’ আলোচনায় আরও যুক্ত হন উপদেষ্টা মফিজুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য ইকরাম বখশ ও মানিক আহমেদ।
পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা