‘দ্য বুক অব রুমি’ ত্রয়োদশ শতাব্দীর খ্যাতনামা পারসি কবি ও সুফি সাধক মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমির লেখা ও বাণী থেকে সংকলিত একটি জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গ্রন্থ। মরিয়ম মাফির সংকলন ও অনুবাদে প্রকাশিত বইটিতে রুমির বিখ্যাত ‘মসনবি’ থেকে ১০৫টি ছোটগল্প, উপকথা ও শিক্ষামূলক নীতিশিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ভৈরব বন্ধুসভা। ৯ আগস্ট বিকেলে প্রথম আলো ভৈরব অফিসে অনুষ্ঠিত হয় ২০৭তম এই পাঠের আসর। সঞ্চালনা করেন পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা।
শুরুতে ‘দ্য বুক অব রুমি’-এর লেখক ও অনুবাদক পরিচিতি নিয়ে আলোচনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশাররফ রাব্বি। বইটি নিয়ে আলোচনা করেন দপ্তর সম্পাদক আফিফুল ইসলাম এবং পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা। তাঁদের যৌথ আলোচনা উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
পাঠচক্রে বইটির গল্পগুলোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য, জীবনের দর্শন এবং সুফি শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচকেরা বলেন, রুমির গল্পগুলো শুধু আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবন, চিন্তা ও আচরণের সঙ্গে এগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর গল্প ও বাণীর মাধ্যমে জীবনের নানা বাস্তবতা, মানবিকতা ও আত্মোপলব্ধির শিক্ষা পাওয়া যায়।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা সুমন মোল্লা সুফিবাদ ও মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সময়ের স্রোতে মানুষের জীবন, রুচি, পরিবেশ ও অভ্যাসে পরিবর্তন এলেও রুমির কথা ও উক্তিগুলো আজও বাস্তব হয়ে রয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রুমির দর্শনের প্রাসঙ্গিকতাও যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে।
সভাপতি জান্নাতুল মিশু বলেন, ‘রুমির গল্পগুলোর মূল তাৎপর্য মূলত আমাদের জীবনের অনেক বড় একটি শিক্ষা। তাঁর গল্পগুলো থেকে আমরা জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারি।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন ভৈরব বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান, সহসভাপতি আফিসা আলী, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক স্নেহা আলম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াংকা, বন্ধু তুহিন, আরবীসহ বন্ধুসভার অন্য বন্ধুরা।
দপ্তর সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা