বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শ্রেষ্ঠ গল্পগুলোর অন্যতম ‘একরাত্রি’। গল্পের নায়ক জমিদারের নায়েবপুত্র। সে স্বাধীন ভারতবর্ষের স্বপ্নে বিভোর। গল্পটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দে ‘সাধনা’ সাময়িক পত্রের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে ‘গল্পগুচ্ছ’ সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯ আগস্ট বিকেলে ‘একরাত্রি’ ছোটগল্প নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। নগরীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় বন্ধুরা গল্পটির পটভূমি, বিষয়বস্তু ও চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করেন।
বন্ধু তুরাবি তাবাসসুম বলেন, ‘গল্পের নায়ক পরাধীন ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ শাসনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তখন বয়স ১৫। এমতাবস্থায় তার বাবা সুরবালার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। সুরবালা তার বাল্যসখী। একসঙ্গে লেখাপড়া ও খেলাধুলার মধ্যে বড় হয়েছে। সুরবালার সঙ্গে রামলোচন উকিলের বিয়ে হয়। সুরবালা চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তার কোনো সংলাপ চোখে পড়েনি। নায়কের বর্ণনার ভেতর দিয়ে গল্পটি শেষ হয়।’
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “একরাত্রি” গল্পের মাধ্যমে জীবনের নির্দিষ্ট বাঁকে গিয়ে আচমকা সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। নির্বাক থেকেও মানুষের মনে অজস্র কথা মাথা ঠুকে মরে। গল্পের পরিণতি আমাদের সেই উপলব্ধির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’
সভাপতি মোহাম্মদ খালিদ হাসান বলেন, আত্মোপলব্ধি ও ব্যর্থতাজনিত আর্তি নিয়ে ‘একরাত্রি’ গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটে। সুরবালাকে একান্তে পেয়েও নায়কের কিছু বলা হয়নি। ‘হাত পাঁচ-ছয় দ্বীপের’ ওপর দুজন নির্বাক দাঁড়িয়েছিল। দুজনই প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে হয়তো মৃত্যুর দেশে ভেসে যেত। সুরবালার সঙ্গে একরাত্রির এই যে আকস্মিক দেখা। এটা তার কাছে অমূল্য পাওয়া। ‘একরাত্রি’ মূলত প্রেমের আবহে আত্মোপলব্ধি ও অনুশোচনার গল্প।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আলমা আরিজ, বন্ধু রাজু আহমেদ, সাজিদ উল্লাহ, রিয়াদ হোসেনসহ অন্যরা।
সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা