শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মনোভাব তৈরি এবং দক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দয়ালনগর বন্ধুসভা। বিকে ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা এক শ শিক্ষার্থীর মধ্যে গবাদিপশু ছাগল বিতরণ করেছে।
গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে পাবনার বেড়া উপজেলার দয়ালনগর বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে এগুলো বিতরণ করা হয়। দয়ালনগর আলোকিত প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাতে ১০০টি ছাগল তুলে দেন অতিথিরা। বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু সায়েম প্রামাণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা এবং বিকে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এ বাতেন খান।
এম এ বাতেন খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে। এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি ভবিষ্যতে তাদের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। আমাদের মূল স্লোগান, “ভালো থাকব, ভালো রাখব”। গণমানুষকে নিয়ে ভালো থাকাই আমরা ভালো থাকা বলে মনে করি। একা ভালো থাকার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। আগামী প্রজন্মের হাতে দেশ; তাই আমরা তাদেরকে নিয়ে ভাবছি এবং কাজ করছি।’
এম এ বাতেন খান বলেন, ‘সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট ও গেমসে অতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য ভালো বার্তা নয়। এখান থেকে এলাকার শিশুদের বের করে উদ্যোক্তা তৈরির মানসিকতা সৃষ্টি করতে তাদের মধ্যে ছাগল বিতরণ করা হচ্ছে। যেন তারা পড়াশোনার পাশাপাশি ছাগল পালনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে পারে এবং গবাদিপশুর প্রতি যত্নবান হয়। আমরা সবাই দাতা হব, গ্রহীতা থাকব না।’
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে মা ছাগল দেওয়া হয়েছে। এটি যখন বাচ্চা দেবে, তখন সেখান থেকে সে একটি বাচ্চা অন্য আরেকজন শিক্ষার্থীকে উপহার দেবে। এভাবে তারা একদিকে নিজেরা যেমন দাতা হবে, তেমনি অন্যদের উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রেরণা দেবে।
প্রতিটি ছাগলের মূল্য ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে আলোকিত প্রজন্ম সমিতির শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে অর্থ জমিয়ে ১০০০ টাকা করে দিয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিকে ফাউন্ডেশন ও দয়ালনগর বন্ধুসভা।
কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক এ এম ফরহাদুজ্জামান, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা বুলুসের সভাপতি জসীম উদ্দিন, পল্লীর স্বত্বাধিকারী আজাদুল হক, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা বুলুসের রোটারিয়ান স্থপতি তাজুল ইসলাম, রোটারিয়ান আলতাফুন নেছা শীলা, মীর সোহাগ, সুপন্যের পরিচালক মিজানুর রহমান, দয়ালনগর বন্ধুসভার আহ্বায়ক আকরাম হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার টুটুল, সদস্যসচিব আনিছুর রহমান ফারুক, সদস্য সাইদুর রহমান খান, মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মহতী এ উদ্যোগের প্রশংসা করে অতিথিরা বলেন, গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। বিকে ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো বন্ধুসভা আগামী দিনেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
উপদেষ্টা, দয়ালনগর বন্ধুসভা