গাইবান্ধা বন্ধুসভার উদ্যোগে ৫১ জন শিশুকে নতুন রঙিন জামা ও ১০টি পরিবারের মধ্যে ঈদের খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। ১১ মার্চ দুপুরে গাইবান্ধা রেলস্টেশন–সংলগ্ন এলাকায় এগুলো বিতরণ করেন বন্ধুরা।
সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং বন্ধুসভার বন্ধুদের অর্থায়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের আহ্বানে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বন্ধুরা শিশুদের মধ্যে এসব উপহার বিতরণ করেন।
রঙিন জামা পেয়ে খুশি শিশুরা। এদের মধ্যে একজন রেলস্টেশন বস্তি এলাকার আট বছর বয়সী আঁখি। বাবা না থাকায় কষ্টের সংসারে বেড়ে ওঠা ফিরোজের গল্পটাও আর দশটা শিশুর মতো নয়। সমাজে সে বেড়ে উঠেছে সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবেই। একই এলাকার আসিফ (১০)। চার বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নানির সঙ্গে থাকে। ঈদে নতুন জামা কিনে দেওয়ার মতো কেউ নেই।
আরেক শিশু শারমিন বলে, ‘এবার ঈদে সগলের মতো হামিও নয়া কাপড় পরে ঈদের মাঠে যামো।’
একই এলাকার ফারজানা (৭) বলে, ‘হামরা খুশি হচি। ঈদের দিন নয়া জামা পরি ঘুরি বেড়ামো।’ মিতু (৮) বলে, ‘আব্বার কাচে শাট কিনি চাচিনু, দ্যায় নাই। আচকে নয়া শাট পানো। ইদোত গায়োত দিয়া বেড়ামো।’
গাইবান্ধা বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী আবুল হোসেন মৃধা বলেন, ‘বন্ধুসভার সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী। তাঁরা বেকার; কিন্তু তাঁদের নিজেদের নতুন জামার জন্য মা–বাবার দেওয়া টাকা বাঁচিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও অসহায় শিশুদের জন্য কিছু করাটা মহৎ উদ্যোগ।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক নিফাউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাশফিহা খানম, প্রচার সম্পাদক খন্দকার রিমি, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক আতহার মিহদা, সৃজনশীল গাইবান্ধার সদস্য রঞ্জন দেবনাথ ও প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন প্রমুখ।
সভাপতি, গাইবান্ধা বন্ধুসভা