আড্ডা, স্মৃতিচারণা ও আগামীর ভাবনা

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বিশেষ আলোচনা সভা ‘সমৃদ্ধির আড্ডা’ছবি: বন্ধুসভা

নতুনত্ব আর পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম বন্ধুসভা কক্ষ। অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আলোচনা সভা ‘সমৃদ্ধির আড্ডা’। বন্ধুসভার নবীন ও প্রবীণ বন্ধুদের মেলবন্ধনে আড্ডা রূপ নেয় এক হৃদতাপূর্ণ পুনর্মিলনীতে, যেখানে উঠে আসে সংগঠনের সোনালি অতীত এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা।

শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এই আড্ডা যেমন স্মৃতিচারণার, তেমনি নিজেদের উন্নয়নেরও। আমরা আমাদের পুরোনো বন্ধুদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে এবং নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলার স্মৃতি রোমন্থন করে বন্ধু জয়শ্রী মজুমদার বলেন, ‘সন্তানকে বন্ধুসভায় যুক্ত করতে এসে নিজেই এর মায়ায় জড়িয়ে গিয়েছিলাম। সেই থেকে আজ অবধি এই অকৃত্রিম টান অটুট আছে।’

বন্ধু রিমি বিশ্বাসও শোনালেন তাঁর বন্ধু হওয়ার গল্প। বলেন, ‘পারিবারিক ব্যস্ততার মাঝেও যখনই মানসিক প্রশান্তি খুঁজেছি, বন্ধুসভা বড় আশ্রয় হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।’

কেবল স্মৃতিচারণা নয়, আগামীর পথরেখা ও গুণগত পরিবর্তনের জন্য আড্ডার মাঝে বন্ধুরা বন্ধুসভার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, নিয়মিত পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে বিগত অনুষ্ঠানের ভুলভ্রান্তি চিহ্নিত করা; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গতানুগতিক নাচগানের পাশাপাশি অভিনয় ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা যুক্ত করা; প্রতিটি আয়োজনে বন্ধুদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ আরও বিস্তৃত করা।

সাংস্কৃতিক মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে বন্ধু দেবমিতা নন্দী নিয়মিত অনুশীলনের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে বন্ধু তুষার কবির গুরুত্ব দেন সময়ানুবর্তিতার ওপর। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক সদস্যের সময়ের মূল্য দিয়ে আমাদের উচিত যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু ও শেষ করার সংস্কৃতি বজায় রাখা।’

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা।

নতুন বন্ধুদের কাছে বন্ধুসভা মানেই এক টুকরা ভরসা। চট্টগ্রাম শহরে পড়তে আসা বন্ধু ইষ্টি পাল বলেন, ‘পরিবার থাকে কক্সবাজারে, আমি এখানে হোস্টেলে থাকি। সবার কাছে বন্ধুসভা দ্বিতীয় পরিবার হলেও, এই শহরে বন্ধুসভাই আমার প্রথম পরিবার।’

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শূন্যতা পূরণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বন্ধুসভাকে বেছে নেওয়ার কথা জানান বন্ধু অতন্দ্রিলা।

সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্ধুসভা সব সময় গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে চায়। বন্ধুদের সক্রিয় অংশগ্রহণই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে সফল করে তোলে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ আর আছাদ, দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তীসহ আরও অনেকে। আয়োজনের সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন জয় চক্রবর্ত্তী।

দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা