খুলনা বন্ধুসভার পাঠচক্রে রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প ‘ছুটি’ নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে খুলনা বন্ধুসভা। ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় গুগল মিটে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথির সঞ্চালনায় শুরুতেই বইটি নিয়ে আলোচনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রহমাতুল্লাহ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক জুঁই আক্তার বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী ছোটগল্প। ফটিক শিশুমনের অনুভূতি, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, শহরের ব্যস্ত ও নিয়মবদ্ধ জীবনে সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না। ধীরে ধীরে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মৃত্যুশয্যায় তার একটাই আকাঙ্ক্ষা ছিল—ছুটি।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘গল্পে তেরো-চৌদ্দ বছরের এক ডানপিটে কিশোর ফটিক চক্রবর্তীর গ্রামের মুক্ত পরিবেশ ছেড়ে কলকাতার মামাবাড়িতে আশ্রয় নেওয়া, তার দুরন্তপনায় অতিষ্ঠ হয়ে মা তাকে তার মামার সঙ্গে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন। নতুন পরিবেশে গিয়ে মামাবাড়ির অবহেলায় মৃত্যুর আগে সে তার মাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়ে প্রলাপ বকে এবং জীবনের শেষ মুহূর্তে মাকে বলে, “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে”।’
বন্ধু আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোর মধ্য দিয়ে ভালোবাসার গভীরতা এবং মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ফুটে উঠেছে ফটিক চরিত্রে।’
সভাপতি স্বর্ণকমল রায় বলেন, ‘বন্যরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। ফটিক ছিল প্রকৃতির সন্তান, কিন্তু ফটিককে যখন নগরজীবনের কারাগারে বন্দী হতে হলো, তখন সে ছিল স্নেহবঞ্চিত। তার হৃদয় খুঁজত একটু স্নেহের আশ্রয়।’
পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন সহসভাপতি হাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক দ্বীপ মণ্ডল, অর্থ সম্পাদক অনির্বাণ সরকার, বন্ধু সালাউদ্দিন সাবাদ, সুদীপ্ত রায়সহ অনেকে।