‘আমি অবাক–বিস্ময়ে মর্মাহত হয়েছিলাম যে আমার বিদ্যালয়ের মেয়েরাও মাদক নেয়। এ জন্য আমরা দুজন মেয়েকে বহিষ্কারও করেছি। কিন্তু আমার প্রশ্ন, এ অবস্থার জন্য কি কেবল তারাই দায়ী? সমাজ, পরিবেশ তাদের এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিবেশ যদি বদলাতে না পারি, সমাজ একদিন ভেঙে পড়বে।’
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ২৬ জুন বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন সিনিয়র শিক্ষক শফিউল আজম। প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা। স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা আজিজুর রহমান, প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলীউজ্জামান নূর, কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারী নেত্রী রুমালি হাসদা, কল্পনা মুর্মু, সামাজিক সংগঠন সম্প্রীতির সভাপতি নাহিদুল হক, শিক্ষার্থী সুর্মিলা হাসদা। সমাপনী বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি মাসরুফা খাতুন। সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সহসভাপতি ফারাহ উলফাৎ রহমান।
রুমালি হাসদা বলেন, ‘হামরা স্বামী-স্ত্রী মিল্যা জমিতে কাম করি। হামারঘের থ্রি-ফোরে পড়া বেটা-বেটিরা ধান লাগাই, ধান বুনে, তাও হামাদের জুটে না। হামাদের বেশির ভাগ পুরুষ মানুষেরা চুয়ানি খায়ে সব উড়িয়া দেয়। সংসারে অশান্তি করে। ছেলা-পিলাদের লিখাপড়া শিখিয়া মানুষ করতে পারি না। চিকিৎসা পায় না। হামরা মাদকের বড়ই ভুক্তভোগী। প্রশাসনকে অভিযোগ করি, কিন্তু তারা এগলাতে নজরই দেয় না। হামরা কি নিচে পড়্যাই থাকব চিরকাল? সরকারের কাছে হামরা এ্যার সমাধান চাই।’
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আরেক নেত্রী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘আমাদের সমাজে মাদকের ছড়াছড়ি। সমাজে অশান্তির মূলেই এখন মাদক। এই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। এই মাদকব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হাতে ধরাও পড়ে, আবার দ্রুত ছাড়াও পায়। সরকারের কাছে অনুরোধ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।’
অর্থ সম্পাদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা