নেতৃত্বের পাঠ ও শিশুদের মুখে হাসি

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ইফতারছবি: বন্ধুসভা

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ইফতার করেছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। তবে এবারের আয়োজনে ছিল ভিন্নতা। কেবল ইফতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বন্ধুদের আগামীর যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে আয়োজন করা হয় ‘নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন’বিষয়ক এক বিশেষ কর্মশালা। ৬ মার্চ জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় বন্ধুসভার নারী-পুরুষের কাজের সমতা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া। উপদেষ্টা তাহমিনা সানজিদা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সুস্পষ্ট জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ গঠন করা সম্ভব।’

‘নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন’বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা
ছবি: বন্ধুসভা

উপদেষ্টা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, প্রত্যেক বন্ধুর মধ্যেই একজন সুপ্ত নেতা রয়েছেন। নিজের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে একটি সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যোগ্য হতে হবে। নেতৃত্বের জন্য তিনি একজন নেতাকে বিচক্ষণ ও বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী হওয়ার পরামর্শ দেন।

আরেক উপদেষ্টা শিহাব জিশান তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, বন্ধুসভার প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে দলগত অবদান। তাই দলগত কাজে প্রত্যেক সদস্যের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা এবং কাজের জবাবদিহি থাকা বাধ্যতামূলক।

সময়ানুবর্তিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা ইশতিয়াক উর রহমান কীভাবে সময়ের সঠিক ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

কর্মশালা শেষে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার। অর্থ সম্পাদক ফয়সাল হাওলাদারের তত্ত্বাবধানে ২০ জন শিশুর সামনে তুলে দেওয়া হয় বাহারি খাবার। প্রচলিত ছোলা, বেগুনি, মুড়ির পাশাপাশি ফ্রাইড রাইস, চিকেন ফ্রাই ও ফলমূল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা।

ছোট্ট শিশু রহিম জানায়, ‘ইফতার বলতেই তো চনা-মুড়ি বুঝি। ভাজা ভাত (ফ্রাইড রাইস) আর মুরগি দিয়ে এই প্রথমবার ইফতার করলাম।’
আরেক শিশু সালমা বলে, ‘এত ভালো ভালো খাবার খাইতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

আয়োজনের সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন বন্ধু নুরুজ্জামান খান, ইব্রাহিম তানভীর, ফয়সাল হাওলাদার, শান্ত বড়ুয়া, জয় চক্রবর্ত্তী, তাজরিয়া রশিদসহ অন্য বন্ধুরা।

সহসভাপতি, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা