‘অ্যালা আরামত ঘোমাবা পারিমো’

ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার শীতবস্ত্র বিতরণছবি: বন্ধুসভা

নিনি বালার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খুলিশাগুরি গ্রামে বাড়ি। লাঠিতে ভর দিয়ে করতে হয় চলাফেরা। গায়ে শাড়ির সঙ্গে একটি ফিনফিনে চাদর। শীতল হাওয়ায় কেঁপে উঠছিলেন। গায়ে একটি কম্বল জড়িয়ে দিতেই তাঁর যেন খুশি আর ধরে না। ফোকলা দাঁতে একগাল হাসি দিয়ে বলেন, ‘কম্বলখান দিয়া তোমরা মোর ছুয়ার কাম করিলেন। অ্যালা আরামত ঘোমাবা পারিমো।’ বলেই বন্ধুসভার এক সদস্যর হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করলেন তিনি।

২ জানুয়ারি বিকেলে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ও ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সহযোগিতায় বিতরণ করা কম্বল নিতে এসেছিলেন নিনি বালা। তাঁর মতো ২৩৫ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয় এদিন। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার শীতবস্ত্র বিতরণ

এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিংগিয়া, খুলিশাগুরি, মোলানী, চাপাগুরি, মাঠপাড়া, আদিবাসীপাড়া গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতার্ত মানুষের তালিকা তৈরি করেন। ২৩৫ জনের হাতে কম্বল বিতরণের স্লিপ তুলে দেওয়া হয়। সেই স্লিপ নিয়ে শীতার্ত ও বয়স্ক নারী-পুরুষেরা সিংগিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাজির হন। যাঁরা কম্বল নিতে আসতে পারেননি, তাঁদের বাড়িতে কম্বল পৌঁছে দেন বন্ধুরা।

কম্বল পেয়ে খুশি খুলিশাগুরি গ্রামের বৃদ্ধা বুধারী রানী। তিনি বলেন, ‘এইবার শীত বেশি পড়িছে। রাইতত ঠান্ডা বেশি নাগে। কুয়াশা আর বাতাসত টিকা যাছেনি। তোমরা কম্বলখান দিয়া খুব উপকার করিলেন। ভগবান তোমার ভালো করিবে।’

সিংগিয়া গ্রামের রোজিনা বেগম (৩৮) বলেন, ‘মাটির দেয়াল আর টিনের চালার বাড়িত থাকি। ঘরত থাকিলেও জার নাগে। মেয়েটা ঘুমাবা পাড়ে না। এই কম্বল উড়িমো। আর জার করিবে নি।’

অন্যের জমিতে কাজ করেন মোলানী গ্রামের কান্তা রানী (৬৭)। রাতে ছাপড়া ঘরের টিন দিয়ে টপটপ করে কুয়াশা পড়ে। এতে কাঁথা ভিজে যায়। কম্বল পেয়ে তিনি বেজায় খুশি। বলেন, ‘কম্বলখান উরিমো (গায়ে দেব), আরামে ঘুমাব।’ বলেই বন্ধুসভার এক সদস্যর মাথায় হাত বুলিয়ে দেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার শীতবস্ত্র বিতরণ

কম্বল পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সিংগিয়া গ্রামের রাবেয়া বেগম (৬৬)। বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, কম্বল না থাকায় শীতে কষ্ট হয়। কেনার টাকা ছিল না। শেষে ভাইয়ের বাড়ি গিয়া একটা কম্বল কিনে নিছি। ওইটাতেও শীত যায় না। তোমরা আমাকে কম্বল দিলেন। আমি খুব খুশি।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, সহসভাপতি রাবেয়া হাসি, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তপু রায়, প্রচার সম্পাদক সিয়ামুর রশিদ, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ফারজানা উর্মি, সদস্য মামুনুর রশিদ, প্রথম আলোর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মজিবর রহমান খান প্রমুখ।

দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা