মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ গল্পে মানুষের জীবন, সমাজবাস্তবতা, যাত্রাপথ এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে। গল্পের চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে লেখক যে বাস্তবতা ও জীবনবোধ তুলে ধরেছেন, তা পাঠককে সমাজ ও মানুষের জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। গল্পের বিভিন্ন চরিত্র, তাদের মানসিকতা এবং পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা পাঠের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি হয় নানা ভাবনা ও পাঠ-প্রতিক্রিয়া।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন এবং বই পাঠের অভ্যাসকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাপ্তাহিক পাঠচক্র। ৯ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অনুষ্ঠিত এ পাঠচক্রে আলোচনা করা হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ থেকে গল্প ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’।
পাঠচক্রের শুরুতে গল্পটির কাহিনি, চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা হয়। গল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পাঠ-অনুভূতি ও মতামত তুলে ধরেন। একই গল্পকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় আলোচনায় উঠে আসে গল্পের চরিত্রগুলোর জীবনসংগ্রাম, মানুষের মনস্তত্ত্ব, সামাজিক বাস্তবতা এবং সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনশৈলী এবং তাঁর গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন ও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার বিষয়টি নিয়েও মতামত প্রকাশ করেন। গল্পের ঘটনাগুলো কীভাবে পাঠকের চিন্তা ও উপলব্ধিকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়েও হয় প্রাণবন্ত আলোচনা।
পাঠচক্র সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান, অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরকার, বন্ধু নাফিসা আফরিন ও সাকিব রহমান।
অনুপ সরকার বলেন, ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ গল্পটি পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা শুধু একটি গল্পের কাহিনি বা চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হইনি; বরং গল্পের আড়ালে থাকা মানুষের জীবন, সমাজ ও বাস্তবতাকেও নতুন করে দেখার সুযোগ পেয়েছি। একটি গল্পকে বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করাই পাঠচক্রের সবচেয়ে সুন্দর দিক। নিয়মিত এমন পাঠচর্চা আমাদের চিন্তাকে আরও গভীর ও সমৃদ্ধ করবে।
অর্থ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা