ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের ত্যাগ, যাঁদের রক্তে অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা। সেই চেতনাকে ধারণ করে জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস। সরকারের বাধা সত্ত্বেও প্রতিবাদ ও মাথা না নোয়ানোর চেতনার গল্প তুলে ধরে। আলোচনায় উপস্থিত বন্ধুরা ছাত্রসমাজের সংগ্রামী চেতনা ও উপন্যাসের মূল ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন বলেন, তারুণ্যের সাহস এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁদের নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের যে চিত্র এই উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম যুবসমাজকে উজ্জীবিত করবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে, মানবিক অধিকার অর্জনের পথে বাধা আসবেই, সেই বাধাকে তারুণ্য তার জীবনীশক্তি দিয়ে অতিক্রম করেই ছাড়ে।
বইমেলা সম্পাদক ত্বা সীন জামান বলেন, জহির রায়হান তাঁর সাবলীল লেখার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে জীবন্ত করেছেন, যা নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রেরণা জোগায়।
সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায় বলেন, ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস ভাষা আন্দোলনের সাহসিকতা ও ছাত্রসমাজের সংগ্রামী চেতনা ফুটিয়ে তোলে। এটি মাতৃভাষার মর্যাদা ও শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জাগায়।
সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘আরেক ফাল্গুন’ বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। মুনিম, আসাদ, সালমা প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে ছাত্রসমাজের ত্যাগ, আদর্শ এবং প্রতিবাদের শক্তি ফুটে উঠেছে। প্রেম ও আন্দোলনের সমন্বয়ে উপন্যাসে অনন্য আবেগময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা আজও পাঠকদের অনুপ্রাণিত করে।
পাঠচক্রে সেরা আলোচক নির্বাচিত হন বইমেলা সম্পাদক ত্বা সীন জামান। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক নাসিফ খান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক পুষ্পিতা দাশসহ অন্য বন্ধুরা।
সভাপতি, রাবি বন্ধুসভা