‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়, এটি আমাদের জীবন্ত সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণা। যাঁরা যুদ্ধ করে পরবর্তীতেও কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই মাটিতে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গাইবান্ধায় ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা। ৩০ মার্চ গাইবান্ধা শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে গাইবান্ধা বন্ধুসভা।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তুলেছি। স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। এ জন্য বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে।’
মুক্তিযুদ্ধগবেষক জহুরুল কাইয়ুম বলেন, ‘ইতিহাস নিয়ে যখন নানা বিভ্রান্তির চেষ্টা চলছে, তখন প্রথম আলোর এই উদ্যোগ আলোর পথ দেখাবে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। একটা ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, ‘স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এক বিষয় নয়। এই দুইয়ের মাঝে বিশাল ব্যবধান। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধারণ করতে হবে।’
গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম, গাইবান্ধা বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবুল হোসেন মৃধা, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন প্রমুখ।
এর আগে বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় ১০১ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর আলোচনা সভা শুরু হয়ে চলে বেলা দুইটা পর্যন্ত। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, তাৎপর্য ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী এই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কুইজে পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাদের হাতে উপহার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই তুলে দেন অতিথিরা। শেষে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনান বন্ধুসভার সদস্য এম এইচ অন্তর।
সভাপতি, গাইবান্ধা বন্ধুসভা