১১ জ্যৈষ্ঠ ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর প্রধান পরিচয় কবি। তাঁকে সাম্য, দ্রোহ এবং প্রেমের কবিও বলা হয়। তাঁর কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে শোষণ ও বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে।
কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছেন। নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর জীবনী নিয়ে পাঠের আসর করে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ২৫ মে বিকেলে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শুরুতেই বন্ধুরা একে একে কবির বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শিমুল বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম গণমানুষের কবি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য তিনি লিখেছেন। ছোট থেকে নজরুলের কবিতা পড়ছি। তাঁর কবিতার প্রতি অন্য রকম একটা ভালোবাসা কাজ করে।’
সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি বিচরণ করেছেন। তিনি যেমন শ্যামাসংগীত করেছেন, তেমনি গজল এবং ইসলামিক গানও রচনা করেছেন। নজরুলের গান ছাড়া বাঙালি মুসলমানের ঈদের আনন্দও যথার্থ হয় না। সভাপতি আসিফ আহমেদ বলেন, ‘নজরুলের কবিতার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। কখনো কোনো বিষয়ে মন খারাপ থাকলে তাঁর কবিতা পড়লেই মন ভালো হয়ে যায়। নজরুলের কবিতা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার প্রেরণা দেয়।’
কবির জীবনী নিয়ে আলোচনা শেষে বন্ধুসভার অনলাইনে প্রকাশিত ‘কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও কাব্যশৈলী’ এবং প্রথম আলোর পাতায় প্রকাশিত ‘নজরুল সম্পর্কে যে ২০টি তথ্য আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন’, এ দুটি আর্টিকেল পাঠ করা হয়। শেষে বন্ধু আরিফুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’ গানটির পটভূমি পড়ে শোনান। সব শেষে প্রচার সম্পাদক সানি তামজীদের কণ্ঠে কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে সভার সমাপ্তি হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক ধ্রুব ভুঁইয়া, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আফরিনা আনিকা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাহিদা ইতু, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক আরাফাত শিহাব, বন্ধু মালিহা তাছনিম, মো. হামিম, ইব্রাহিম আল জাবের, জাহেদুল ইসলামসহ অন্য বন্ধুরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা