রবীন্দ্রনাথের চিঠির সংকলন ‘ছিন্নপত্র’ নিয়ে পাঠচক্র

ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘ছিন্নপত্র’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। ১২ এপ্রিল বিকেলে প্রথম আলো ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্র’ (১৯১২) মূলত ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা তাঁর ব্যক্তিগত চিঠির একটি বিশেষ সংকলন। এই চিঠিগুলো তিনি ১৮৮৭ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শিলাইদহ, সাজাদপুর ও পতিসরে জমিদারি তদারকির সময় লিখেছিলেন।

সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রের চিঠিগুলো যখন লেখা হয় তখন তিনি ছিলেন টগবগে তরুণ। ২৬ বছর বয়স থেকে এই চিঠিগুলো লেখা শুরু হয় এবং শেষ চিঠিটি যখন লেখা হয় তখন তাঁর বয়স ৩৫। এই সময়ের মধ্যে তাঁর মনভূমিও ভবিষ্যৎ সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য প্রস্তুত হয়। প্রমত্ত পদ্মার অপরূপ সৌন্দর্য, গ্রামবাংলার প্রকৃতির অনিন্দ্যসুন্দর রূপ তাঁকে সুন্দর ও সত্যের কাছে যাওয়ার জন্য উজ্জীবিত করে তোলে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ছিন্নপত্র’র চিঠিগুলোতে যে ভাবজগতের বার্তা পাই, সে বার্তা মূলত ভেসে এসেছিল স্রোতস্বিনী পদ্মার বুকের ভেতর থেকে। রবীন্দ্রনাথ কান পেতে সে বার্তাকে অন্তরে ধারণ করেছিলেন।

ম্যাগাজিন সম্পাদক ফারহান তানভীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলার প্রকৃতির অন্তরের সঙ্গে মিশে যান, ‘ছিন্নপত্র’র প্রতিটি পত্রের অন্তর্গত বার্তা বাংলার মাটির গন্ধ থেকে উঠে আসে। রবীন্দ্রমানস ভাব–ঐশ্বর্যে ঐশ্বর্যবান হয়ে যায়। মনভূমি তাঁর সুবর্ণ পলিতে ভরে যায়। সেই সুবর্ণ পলি তাঁকে মহামূল্যবান সৃষ্টির উপকরণ জোগায়। রবীন্দ্রনাথের কাব্যজ্যোতি প্রকাশিত হওয়ার জন্য ‘ছিন্নপত্র’ লেখার এই দশকটি তাঁকে জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ করে দেয়।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুনমুন আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য সরকার সাদমান ওয়াসিতসহ অন্য বন্ধুরা।

সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা