গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার অভিষেক

অতিথি ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরাছবি: বন্ধুসভা

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আলো বন্ধুসভার নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি সভাকক্ষে বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের নাম ও তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন অতিথিরা।

শুরুতেই গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্বরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিদিতা চৌধুরী ও জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সদস্যসচিব রাজিউল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা আশিকুজ্জামান অভি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বুশরা।

বক্তব্য দেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি ফরহাদ হোসেন মল্লিক
ছবি: বন্ধুসভা

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ফুয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করতাম; তখন প্রথম আলো পত্রিকা পড়তাম নিউজ লেখা শেখার জন্য। ক্যাম্পাসে প্রথম আলো বন্ধুসভার কার্যক্রম দেখতাম। ২০০২–০৩ সালের দিকে জাবি বন্ধুসভার যাত্রা শুরু হয়। সে সময় আমারও কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল।’

শিক্ষার্থীদের কর্মতৎপরতা দেখে উৎসাহ পান জানিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উপদেষ্টা অধ্যাপক নিলয় কুমার দে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেকোনো সৃজনশীল কাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে। বন্ধুসভা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের বিকাশ এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।’

কেক কেটে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার অভিষেক
ছবি: বন্ধুসভা

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ‘শিক্ষাজীবন থেকেই আমি বন্ধুসভার ভালো কাজ ও সমাজে এর প্রভাব সম্পর্কে জানি। আজ এখানে যাঁরা আছেন আপনাদের হাত দিয়েই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাজসহ ভালো ভালো কার্যক্রম বৃদ্ধি পাক। আপনাদের এ ধরনের কাজে আমি সব সময় পাশে থাকব।’

উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি ফরহাদ হোসেন মল্লিক। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বন্ধুসভার নতুন সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বন্ধুসভার বন্ধুরা বছরব্যাপী নানা ভালো কাজের মাধ্যমে সমাজে একটা অবদান রাখার চেষ্টা করি। আজ ছুটির দিন থাকাও সত্ত্বেও আপনারা যাঁরা বন্ধুসভার অনুষ্ঠানে এসেছেন, তাঁদের নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়।’ এ সময় তিনি বন্ধুসভা কীভাবে কাজ করে, কী কী কাজ করে—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন।

কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিরা
ছবি: বন্ধুসভা

জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি নূর–ই আলম বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে গেছেন, আমরাও স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ করে যাচ্ছি। তিনি পারতেন অর্থের দিক থেকে বিত্তশালী হতে, কিন্তু তিনি তা করেননি। বন্ধুসভায় আমরাও নিজেদের অর্থেই কাজ করি। বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত থাকলে নিজেকে মানবিক দিক দিয়ে, দক্ষতার দিক দিয়ে সমৃদ্ধ করা যায়। আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্বেচ্ছাসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকলে ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনে তা কোনো না কোনোভাবে কাজে লাগবে।’

আলোচনা পর্ব শেষে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন জাতীয় পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি ফরহাদ হোসেন মল্লিক। পরে সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মেডিকেল ফিজিকস অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান এবং সদস্যসচিব আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিউল ইসলাম।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার বন্ধুদের একাংশ
ছবি: বন্ধুসভা

কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নিলয় কুমার দে, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু রায়হান, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারাহ ইকবাল ও সহকারী অধ্যাপক মো. আল আমিন, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক শরীফ আহমেদ, কৃষি অনুষদের প্রভাষক লাবনী ইয়াসমিন, প্রথম আলোর সাভার প্রতিনিধি সামসুজ্জামান শামস এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হাসিব মীর।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান প্রিন্স ও বিদিতা চৌধুরী, সদস্য জাহিদ হাসান, এহিয়া খান, মনোয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, রাফসান ফয়সাল, সুবর্ণা বিশ্বাস, এ বি সিয়াম, নাজমুল হোসেন, কেয়া আক্তার, মাহফুজা আক্তার ও মো. সিয়াম।