‘এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে। শিক্ষার্থীরা ইতিহাস জানার সুযোগ পায়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল অতীত স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম এই ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাহস, সততা ও মানবিক চেতনায় সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসবে।’
ময়মনসিংহ বন্ধুসভার উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার। ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ২৪ মিনিটে ২৪টি প্রশ্নের উত্তর দেয় সবাই। চূড়ান্ত ফলাফলে সেরা ৫ জনসহ মোট ১১ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তারা হলো যথাক্রমে হাফছা রহমান, নুসাইবা হক, নুসাইবা আলম, নন্দিতা দত্ত, ফাহমিদা জামান, রামিছা নাসিম, ইকরা ইসলাম, রওজাতুল জান্নাহ, মায়িশা আহমেদ, তাহমিম নিশাত ও তাফসিয়া বিনতে মালেক।। বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে উপহার দেওয়া হয় বই।
বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরুল হক ও স্বপ্না বেগম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির জীবনে বসন্ত এসেছিল ঝাঁকঝাঁক দেশপ্রেমী তরুণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তাৎপর্যে সচেতনতা ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে ময়মনসিংহ বন্ধুসভার এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।’
ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে—একটি আন্দোলন কীভাবে চেতনার ভিত্তি গড়ে তোলে।’
জুলাই নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক রাবিয়াতুল বুশরা। বলেন, ময়মনসিংহে প্রথম আন্দোলন শুরু হয় আনন্দ মোহন কলেজ থেকে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহরের টাউন হলের মোড়ে সমবেত হন। ১৯ জুলাই আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় রেদওয়ান হাসান শহীদ হন। এদিন ময়মনসিংহে মোট পাঁচজন শহীদসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ময়মনসিংহ মোট শহীদ হন ৪১ জন।
সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা