হুমায়ূন আহমেদের ‘অপেক্ষা’ নিয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্র
হুমায়ূন আহমেদের ‘অপেক্ষা’ শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; বরং মানুষের জীবনে অপেক্ষা, প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও হারানোর বেদনার এক গভীর মানবিক প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে আশা, অনিশ্চয়তা, ভালোবাসা ও না পাওয়ার বেদনা সংবেদনশীলভাবে ফুটে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন ও বাস্তবতা বদলে গেলেও ভালোবাসা, স্মৃতি, বিচ্ছেদ ও অপেক্ষার অনুভূতি চিরন্তন।
১ আগস্ট ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বনমায়া প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্রে আলোচনা হয় হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘অপেক্ষা’ নিয়ে। পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকার সঞ্চালনায় শুরুতে উপস্থিত বন্ধুদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সঞ্চালক উপন্যাসটির কাহিনি, চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ, মানবিক অনুভূতি, পারিবারিক সম্পর্ক, অপেক্ষা, ভালোবাসা এবং জীবনের নানা বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব, আবেগ ও জীবনসংগ্রামের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি।
সঞ্চালকের আলোচনার পর অংশগ্রহণকারী বন্ধুরা উপন্যাসটির বিভিন্ন চরিত্র, সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজেদের মতামত ও পাঠ-অনুভূতি ভাগাভাগি করেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পাঠচক্রটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও ভাবনাসমৃদ্ধ।
সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ফারসি উপন্যাসটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা’ পাঠককে কেবল একটি গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং সম্পর্ক, মানবিক অনুভূতি ও অপেক্ষার গভীর তাৎপর্য নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়। তিনি নিয়মিত বই পাঠের মাধ্যমে সাহিত্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভাপতি মুসাভভির সাকির হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজীবন, বাংলা সাহিত্যে তাঁর অনন্য অবদান এবং সহজ-সরল অথচ গভীর জীবনবোধসম্পন্ন লেখনশৈলী নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উপস্থিত বন্ধুদের নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও বই পাঠে আরও বেশি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বই পাঠের কোনো বিকল্প নেই।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য সুমাইয়া শাহরিন, আবদুর রহিম, ফাইকুজ্জামানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং নতুন কয়েকজন বন্ধু।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা