বেদেপল্লির মানুষের সংগ্রামের আরেক নাম জীবন
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ জেলার মোল্লারহাট ব্রিজ–সংলগ্ন বেদেপল্লি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার বন্ধুরা। মূল উদ্দেশ্য ছিল বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সংগ্রাম ও বাস্তবতা কাছ থেকে জানা। সেখানে গিয়ে বন্ধুরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।
বেদে সম্প্রদায়ের মানুষেরা জানান, স্থায়ী বসবাসের জায়গা না থাকায় তাঁরা এক স্থানে বেশিদিন থাকতে পারেন না। তাঁদের প্রধান পেশা মাছ ধরা, সাপ ধরা ও তাবিজ বিক্রি। নারীরাও বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। তবে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা যেন তাঁদের নিত্যসঙ্গী।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পল্লির অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যায় না। যাযাবর জীবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দূরে হওয়ায় তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কিছু পরিবার সরকারি ঘর পেলেও অনেকে এখনো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে। নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা কিংবা সুস্থ পরিবেশ।
বেদেরা দেশের নাগরিক হলেও নানা দিক থেকে বঞ্চিত। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় অনেক সময় সরকারি সহায়তা বা ব্যাংকিং–সুবিধাও পান না। অসুস্থ হলে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার খরচ বেশি হলে একে অপরের সহায়তায় তা মেটানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোবিপ্রবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আলামিন শেখ, বন্ধু সিদরাতুল মুনতাহা, দপ্তর সম্পাদক জামিউল আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা। তাঁরা বলেন, ‘এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বেদেপল্লির মানুষের প্রাণশক্তি বিস্ময় জাগায়। সীমাহীন অভাবের মধ্যেও তারা হাসতে জানে, বাঁচতে জানে। যেন দূর্বাঘাসের মতোই প্রতিকূলতার ভেতর তাদের টিকে থাকার নামই জীবন।’
বেদেপল্লি ঘুরে ‘বনফুল’–এর ‘দূর্বা’ গল্পের সেই কথাগুলো মনে পড়ে যায়—‘যেতে যেতে মনে হলো, কী জঘন্য দরিদ্র জীবন যাপন করে এরা। খেতে পায় না, রোগে ভোগে, শিক্ষা নেই, মাথা গোঁজবার জায়গা নেই। জীবনযুদ্ধে এরা কি টিকবে?’ আজও সেই প্রশ্ন যেন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা