বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘ইছামতী’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে এডাস্ট বন্ধুসভা। ৮ আগস্ট বেলা ১১টায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসের চরিত্র, ইছামতী নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবন, নিলকুঠির অত্যাচার, সামাজিক পটভূমি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেন। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঊনবিংশ শতাব্দীর সামাজিক বাস্তবতা ও মানবজীবনের গভীর সত্য বোঝার সুযোগ পান।
পাঠ আলোচনায় প্রচার সম্পাদক সানিয়া আক্তার বলেন, ‘ইছামতী’ কেবল একটি নদী বা অঞ্চলের গল্প নয়; এটি প্রকৃতি, মানুষ ও তৎকালীন সমাজ বাস্তবতার এক নিখুঁত চিত্রায়ন। উপন্যাসে ইছামতী নদী মানবজীবনের সুখ–দুঃখ, পরিবর্তন ও বহমানতার প্রতীক হিসেবে উপস্থিত।
সমাজ বাস্তবতা, কুঠিয়ালদের শোষণ ও প্রকৃতির শান্ত-স্নিগ্ধ রূপের অপূর্ব সংমিশ্রণের কারণে ‘ইছামতী’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য ও মহৎ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত। নদীতীরবর্তী মোল্লাহাটি গ্রামের মানুষের সরল জীবন, কুঠিয়ালদের অত্যাচার ও নীলচাষের পেছনের নির্মম ইতিহাস এই উপন্যাসে অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভবানী প্রামাণিক একজন সৎ, আদর্শবান ও আধ্যাত্মিক ভাবাপন্ন মানুষ। প্রকৃতির সান্নিধ্যে শান্ত জীবনযাপন করলেও নীলকুঠির অত্যাচার ও সমাজের নানা অবিচার তাঁকে ব্যথিত করে। ভবানী প্রামাণিকের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়েই লেখক প্রকৃতি ও জীবনের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তখনকার সামাজিক সংকটকে তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে নীলকুঠির ম্যানেজার ও দেওয়ানদের নির্মম শোষণের চিত্র তৎকালীন সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে স্পষ্ট করে তোলে। এর মধ্যেই ইছামতীর বহমানতা ও প্রকৃতির নিরবচ্ছিন্ন রূপ মানুষকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফারাবী আনাছ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশরাত জেরিন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জান্নাতুল নাঈম, দপ্তর সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক তানভীর আহমেদ, সাংগঠনিক সদস্য মিথিলাসহ অন্য সদস্যরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, এডাস্ট বন্ধুসভা