পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভার বন্ধুরা অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মধ্যে ঈদের নতুন জামা বিতরণ করেছেন। ৮ মার্চ দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় অক্সফোর্ড প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুল চত্বরে এগুলো বিতরণ করা হয়।
ঈদ উপহারের জামা হাতে পেয়ে শিশু আরাফাত মুচকি হাসি দিয়ে বলে, ‘জামাডা অনেক সুন্দর হইসে। ঈদের দিন এই জামা পইরা ঘুরতে যামু।’
নতুন জামা পেয়ে খুশি ১০ বছর বয়সী তাসফিয়া আক্তার বলে, ‘অনেকেই ঈদের জামা কিনে ফেলেছে। কিন্তু আমার নতুন জামা পাইনি। আজ এখানে এসে নতুন জামা পেয়েছি। খুবই ভালো লাগছে।’
সাত বছর বয়সী এক শিশুর মা সালেহা বেগম বলেন, ‘আশপাশের বাড়িতে থাকা ছেলের বন্ধুরা নতুন জামা কিনলেও ছেলেকে জামা কিনে দিতে পারিনি। ছেলে প্রায় ঈদের জামার জন্য আবদার করত। আপনারা ছেলের সেই আবদার পূরণ করলেন। আপনাদের জন্য দোয়া করব।’
আরেক শিশুর মা মনিরা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এক আপা (বন্ধুসভার বন্ধু) এসে আমার মেয়ের জামার সাইজ নিয়ে গেছে। আজ সেই অনুযায়ী মেয়েকে নতুন জামা দিয়েছে। ঈদের দিন মেয়েকে এই জামা পরাব। এরপর মেয়েকে মেলায় ঘুরতে নিয়ে যাব।’
কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি নাজিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর “সহমর্মিতার ঈদ” কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের নতুন জামা উপহার দিয়ে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অর্ধশতাধিক শিশুর মাঝে নতুন জামা দিয়েছি।’
সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সাইফুল বলেন, ‘ঈদের আসল শিক্ষা হলো সহমর্মিতা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। আমাদের সমাজে অনেক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়েছেন। যাঁদের ঈদের জামা কিনতে অনেক বেগ পেতে হয়। অনেকে জামা কিনেও দিতে পারেন না। এসব মানুষের পাশে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানো উচিত। যাতে ঈদে সবার মুখে হাসি ফোটে।’
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি রেবেকা সুলতানা, নুসরাত আরা তানজিমা, সহসভাপতি শামসুন্নাহার শিরীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আনাস আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মাহিমুন কবির, ম্যাগাজিন সম্পাদক মোহনা আক্তার, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহিনুর কবির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক গৌতম বড়ুয়া, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক ইউশা ইউনান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবিদ হাসান ও ফাতেমাতুজ্জাহান ঈলমা প্রমুখ।