২০ বছর পর ঈদে নতুন পোশাক পেলেন করিম চাচা

সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদছবি: বন্ধুসভা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদরাত, রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় পান্থপথ। চারপাশে আলো, মানুষের ভিড়, কেনাকাটার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। এই আনন্দের ভিড়ের মাঝেই এক কোণে নীরবে বসে ছিলেন করিম চাচা। বয়স ষাটের ঘরে, চোখে ক্লান্তির ছাপ, জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের রেখা মুখজুড়ে স্পষ্ট।

প্রায় ২০ বছর ধরে এই শহরের ফুটপাতই তাঁর ঠিকানা। মানুষের দয়ায় চলে জীবন। ঈদ আসে, ঈদ যায়, কিন্তু জীবনে উৎসবের রং খুব একটা লাগে না। নতুন জামার স্বপ্নও দেখেন না। কিন্তু এবারের চাঁদরাত ছিল অন্য রকম। সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে তিনি পেয়েছেন নতুন জামা, যা তাঁর ঈদের আনন্দকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

করিম চাচা একা নন। তাঁর মতো আরও অনেকেই আছেন এই শহরের অলিগলিতে, যাঁদের কাছে ‘যেখানে রাত, সেখানেই কাত’ শুধু একটি প্রবাদ বাক্য নয়, বাস্তবতা। হামিদ ও হোসেন ভাই দুজনই রিকশাচালক। সারা দিন প্যাডেল ঘুরিয়ে যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলে সংসার। রাত হলে সেই রিকশাতেই ঘুমিয়ে পড়েন তাঁরা।

ঈদের দিনও তাঁদের জীবনে আলাদা কিছু হয় না সাধারণত। কিন্তু এবার তাঁরা পেয়েছেন নতুন পোশাক, পেয়েছেন বন্ধুদের ভালোবাসা, পেয়েছেন একটু ভিন্ন রকম ঈদের স্বাদ।

হামিদা খাতুনও ছিলেন সেই তালিকায়। সংসার চলে কোনোমতে। তবু নতুন কাপড় হাতে পেয়ে তাঁর চোখে যে আনন্দের ঝিলিক, সেটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। হামিদা খাতুনসহ আরও অন্তত ১৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে চাঁদরাতে নতুন পোশাক ও উপহার তুলে দেন বন্ধুসভার বন্ধুরা।

সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ।

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের আহ্বানে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানবিক এই উপহার প্রদান করেন বন্ধুরা।

রমজানের শুরু থেকেই এই কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নেয় সংগঠনটি। সদস্যদের উদ্যোগে একটি অনুদান তহবিল গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল অবহেলিত মানুষের ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করা। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সদস্যরা আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যান।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার দপ্তর সম্পাদক তানভীর আলিফ বলেন, ‘সহমর্মিতার ঈদ শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। আমরা হয়তো সীমিত পরিসরে কাজ করেছি, কিন্তু কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটাই বড় সাফল্য।’