বৈশাখ মানেই নতুন করে বাঁচার অঙ্গীকার, নতুন করে শুরু করার সাহস। তীব্র রোদ, কালবৈশাখী আর মেঘ-রোদের লুকোচুরিতে ভরা এই সময় যেন এক চিরায়ত অনুভব, যেখানে সংস্কৃতি হয়ে ওঠে আমাদের আসল পরিচয়। হাজার বছরের এই প্রবাহে বৈশাখ কখনো তীব্র দহন, কখনো শীতল পরশে জীবনের বৈপরীত্যকে সামনে আনে। সেই নবজাগরণের আহ্বানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন করেছে বিভিন্ন বন্ধুসভা।
জাতীয়ভাবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধুসভার বর্ষবরণ উৎসব। অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয় কাগজ দিয়ে বানানো হাতি, ঘোড়া, কুলা, ইলিশ, রংবেরঙের ঘুড়িসহ বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাদানে। ছিল বাতাসা, মুড়ি-মুড়কি, পান্তাভাত, মাছভাজাসহ হরেক রকমের ভর্তা। ঢোল, গিটার ও উকুলেলের তালে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন বন্ধুরা।
জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমরা বন্ধুসভার পক্ষ থেকে একদম ঘরোয়াভাবে সত্যিকারের বাঙালিয়ানার চর্চা করতে চেয়েছি। বন্ধুসভার প্রত্যেক বন্ধু বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। আমরা বন্ধুরা যেন বাংলাদেশের কণ্ঠ হয়ে উঠি। বৈশাখকে লালন, ধারণ ও পালন করতে পারি। এ আয়োজনগুলো সে কারণেই।’
ব্রহ্মপুত্রের বালুচরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে পান্তা-ইলিশের উৎসব করে জামালপুর বন্ধুসভা। খাওয়ার আগে শিশুদের বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয় দৌড় প্রতিযোগিতা। বালুর চরে ছোট শিশুদের দৌড় আর আনন্দ-উল্লাস উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বৈশাখী মেলা পরিদর্শন ও তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে ‘পথশিশুদের হাসিতে বৈশাখের রং’ শিরোনামে বিশেষ আয়োজন করে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স চাইল্ড হোমের শিশুদের নিয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা বর্ষবরণ উদ্যাপন করে। ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিস্কুটদৌড়, হাডুডু ও মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণসহ নানা আয়োজন।
কুড়িগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা বৈশাখী শোভাযাত্রা ও প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালায় অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলায় স্টল দিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য উৎসব করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা। ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। হাতে বাঁশি, মুখে মুখোশ, রঙিন ফিতাসহ দাশাই নাচের সঙ্গে বৈশাখী সাজে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেয় সবাই। আগের দিন মহানন্দা নদীর পাড়ে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবও করে তারা।
কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ পরিবেশনা, রম্য বিতর্কসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভা।
কাতার বন্ধুসভা দোহার আল মুনতাজা পার্কে বৈশাখী মিলনমেলার আয়োজন করে। বাংলায় কথা বলার চর্চা, মুক্ত আড্ডা, পাঠচক্র ও উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।
এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নওগাঁ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী, মহেশখালী, সৈয়দপুর, গাজীপুর, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, খুলনা, ঝালকাঠি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, দয়ালনগর, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর, দিনাজপুরসহ অন্যান্য বন্ধুসভা। সবার অনুষ্ঠানেই ছিল পান্তা–ইলিশ দিয়ে বৈশাখী ভোজ, স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শেষে বন্ধুরা বৈশাখী মেলায় দল বেঁধে ঘুরতে যান।