গল্পে গল্পে চিঠির স্মৃতিচারণা

চিঠি দিবসে দিনাজপুর বন্ধুসভার আয়োজনছবি: বন্ধুসভা

একসময় দূরের প্রিয়জনের কাছে মনের কথা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল চিঠি। কাগজের পাতায় হাতের লেখা কয়েকটি শব্দের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা, ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ—চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এমন এক আবেগ, যা মুহূর্তে পাঠানো কোনো ডিজিটাল বার্তায় পুরোপুরি পাওয়া যায় না। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ই-মেইল, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুতগতির ভিড়ে চিঠি আজ অনেকটাই বিলুপ্তপ্রায়।

সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘গল্পে গল্পে চিঠির স্মৃতিচারণা’ শিরোনামে বিশেষ আড্ডার আয়োজন করেছে দিনাজপুর বন্ধুসভা। বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে ১ সেপ্টেম্বর শহরের দয়ানন্দ সাধারণ গ্রন্থাগারে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

আড্ডায় বন্ধুরা একত্র হয়ে নিজেদের চিঠি লেখার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি ভাগাভাগি করেন। এতে অংশ নিয়ে চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সনৎ চক্রবর্তী তাঁর চিঠি লেখার স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সময়টা ছিল প্রায় ৩০ বছর আগে। প্রতিদিন চার-পাঁচটি চিঠি লিখতাম। নিজের প্রয়োজনে মাসে এক-দুইটি, আর বাকি চিঠিগুলো লিখতাম প্রতিবেশীদের প্রয়োজনে। আবার অনেক প্রতিবেশীর চিঠিও আমার ঠিকানায় আসত। চিঠির প্রয়োজনে সে সময় অনেকের কাছেই আমি প্রিয় ছিলাম। আজকের দিনে সেসবই পুরোনো স্মৃতি।’

নিজের ব্যক্তিজীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সনৎ চক্রবর্তী জানান, একবার তিনি একটি প্রেমপত্র পেয়েছিলেন। সেই চিঠি পড়তে গিয়ে বড় দিদির হাতে ধরা পড়েন এবং বেশ মারও খেতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর এই মজার স্মৃতিচারণা শুনে উপস্থিত বন্ধুরা হাসিতে মেতে ওঠেন।

বর্তমান যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে এই শিক্ষক বলেন, ‘আধুনিক যুগের যোগাযোগের ডিভাইসগুলোয় নেতিবাচক বিষয়ই অনেকটা স্থান পেয়েছে। মানুষ বর্তমানের যোগাযোগব্যবস্থাকে অনেক সময় অশ্লীলভাবে ব্যবহার করছে। যা দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।’

হালজয় উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর চিঠি দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু আগের দিনে ভাবের আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি, যা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। চিঠির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের সবার চিঠি লেখা উচিত। বিশেষ করে ছাত্রজীবনে চিঠি লিখলে ভাষাজ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং হাতের লেখাও সুন্দর হয়।’

সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে চিঠি লেখার অভ্যাস হারিয়ে গেলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতিগুলো আজও মানুষের মনে জীবন্ত। নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠির সেই আবেগ ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিয়মিত চিঠি লেখার অভ্যাস গড়ে তোলাই হলো এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।’

সাধারণ সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা