জাবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে জহির রায়হানের ‘আর কত দিন’

জাবি বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জহির রায়হান এক অনন্য নাম। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে সময়, সমাজ, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার নানা দিক। কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আর কত দিন’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা।

২০ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ১০ নম্বর কক্ষে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশারফ। জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট। পাঠচক্রে ‘আর কত দিন’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু, মুক্তিযুদ্ধকালীন সমাজবাস্তবতা, সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং লেখকের সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, ‘আর কত দিন’ শুধু একটি উপন্যাস নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানুষের জীবন, ভয়, অনিশ্চয়তা, দুঃখ-কষ্ট এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ মানুষের যে জীবনসংগ্রাম, তা জহির রায়হান তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন গভীর সংবেদনশীলতার সঙ্গে।

আলোচক পারভেজ মোশারফ বলেন, ‘আর কত দিন’ পড়লে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাধারণ মানুষের জীবন ও মানসিক অবস্থাকে কাছ থেকে অনুভব করা যায়। জহির রায়হান শুধু ইতিহাসের ঘটনাগুলো তুলে ধরেননি, সেই সময়ের মানুষের স্বপ্ন, ভয়, কষ্ট ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকেও সাহিত্যের মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলেছেন।

পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনা নিয়ে নিজেদের পাঠ-অনুভূতি ও মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জহির রায়হানের সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ, সমাজবাস্তবতা এবং মানুষের জীবন কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সাহিত্য পাঠের মধ্য দিয়ে ইতিহাসকে জানার এবং সময়কে নতুনভাবে উপলব্ধি করার গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।

সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান বলেন, ‘জহির রায়হানের মতো একজন লেখকের জন্মদিনে তাঁর লেখাপড়ার মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহিত্য আমাদের শুধু একটি সময়ের গল্প বলে না, বরং সেই সময়ের মানুষ, সমাজ ও স্বপ্নের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তরুণদের মধ্যে এমন পাঠচর্চা যত বাড়বে, ইতিহাস ও সমাজকে বোঝার সুযোগও তত গভীর হবে।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ, প্রচার সম্পাদক অরুণিমা পাল, বন্ধু সিফাত আহমেদসহ অন্যান্যরা।

সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, সাহিত্য ও ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরি এবং মুক্তচিন্তার চর্চাকে উৎসাহিত করতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার নিয়মিত পাঠচক্রের আয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম পাঠ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে এই চর্চা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সাংগঠনিক সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা