‘মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল বৈষম্য ও সীমাহীন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। আজ তোমরা সহজে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছ, কিন্তু তখন বাঙালিরা এ সুযোগ পেত না। সুযোগ পেলেও উচ্চমূল্যে শিক্ষা উপকরণ কিনতে হতো এবং শিক্ষিতদের জন্য চাকরির সুযোগ ছিল খুবই সীমিত।’
বাগেরহাটে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও বাগেরহাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) শেখ মুজিবুর রহমান। ৩১ মার্চ শহরতলির উদ্দীপন বদর-সমছু বিদ্যানিকেতনে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে বাগেরহাট বন্ধুসভা।
শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি সংঘটিত ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনও বাঙালির মুক্তির একটি উদাহরণ। তবে বাঙালি জাতির সর্ববৃহৎ অর্জন হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।’
‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে এ অনুষ্ঠানে উদ্দীপন বদর-সমছু বিদ্যানিকেতনের ২৫০–এর অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল পর্ব শুরু হয়।
উদ্দীপন বদর-সমছু বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দীপংকর পাল বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা সব সময়ই ভালো কাজ করার চেষ্টা করে। তবে এবারের আয়োজন ব্যতিক্রমধর্মী। মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড এর আগে আয়োজন করা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।’
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী সমন্বয়ক মাহামুদ হোসেন শোভন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে হয়নি; এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নির্যাতন ও নিপীড়ন। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে তখনকার সমাজের সব স্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জন্ম হয় বাংলাদেশের।’
অলিম্পিয়াডের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রথম পাঁচজনকে বই উপহার দেওয়া হয়। প্রথম স্থান অধিকার করে আল নাহিয়ান, দ্বিতীয় জান্নাতুল ফেরদৌস, তৃতীয় হালিমা খাতুন, চতুর্থ সুমাইয়া জান্নাতি এবং পঞ্চম হয়েছে নিয়ামুল খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার সদস্য রাকিবুল ইসলাম ও ইমরান শিকদারসহ অনেকে।
সাধারণ সম্পাদক, বাগেরহাট বন্ধুসভা