মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ‘চাঁদের পাহাড়’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠের আসরছবি: বন্ধুসভা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘চাঁদের পাহাড়’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হতাশা চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসটির কাহিনি, শঙ্করের অভিযাত্রা, প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ, সাহস, স্বপ্ন এবং অজানাকে জানার মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় উঠে আসে, ‘চাঁদের পাহাড়’ শুধু একটি রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প নয়। শঙ্করের চরিত্রের মধ্য দিয়ে একজন তরুণের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা, প্রতিকূলতার মুখে সাহস এবং স্বপ্নের প্রতি অটুট থাকার মানসিকতা ফুটে উঠেছে। আফ্রিকার বিস্তৃত প্রকৃতি ও বিপজ্জনক পরিবেশের বর্ণনার মধ্য দিয়ে লেখক পাঠককে এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যান।

বন্ধু সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘“চাঁদের পাহাড়” আমার কাছে শুধু একটি অভিযানের গল্প নয়, এটি স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। শঙ্করের চরিত্র আমাদের শেখায় পরিচিত নিরাপদ গণ্ডির বাইরে যাওয়ার সাহস থেকেই নতুন পৃথিবীকে আবিষ্কার করা সম্ভব।’

বন্ধু মো. ইসনাইন বলেন, ‘শঙ্করের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কৌতূহল ও অদম্য মানসিকতা। অজানা জায়গা, ভয় ও প্রতিকূলতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। এই জায়গা থেকেই “চাঁদের পাহাড়” তরুণদের কাছে এত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’

বন্ধু ফারজানা বলেন, ‘বিভূতিভূষণের প্রকৃতিবর্ণনা “চাঁদের পাহাড়”কে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আফ্রিকার অচেনা প্রকৃতি, বন্য পরিবেশ ও অভিযানের উত্তেজনা পাঠকের কল্পনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একই সঙ্গে উপন্যাসটি আমাদের প্রকৃতির বিশালতা ও মানুষের সীমাবদ্ধতাও অনুভব করায়।’

সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘“চাঁদের পাহাড়” প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠককে আকৃষ্ট করে আসছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা। পাঠচক্রে আমরা শুধু উপন্যাসের রোমাঞ্চ নয়; শঙ্করের স্বপ্ন, সাহস ও জীবনবোধকেও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি।’

পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হাসান করিম।