কক্সবাজার সিটি কলেজ বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘শ্রাবণের দিন’
আমিনুল ইসলাম রচিত ‘শ্রাবণের দিন’ বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে কক্সবাজার সিটি কলেজ বন্ধুসভা। ৯ ফেব্রুয়ারি কলেজ ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়। পাঠচক্রে শিক্ষার্থীরা বইটির মূল কাহিনি, চরিত্র ও সামাজিক বার্তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
‘শ্রাবণের দিন’ মূলত গ্রামবাংলার বর্ষাকালকে পটভূমি করে রচিত একটি জীবনঘনিষ্ঠ গল্পগ্রন্থ। এখানে শ্রাবণের বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির বর্ণনা নয়; বরং মানুষের জীবনের দুঃখ, আনন্দ, প্রেম ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পগুলোতে দেখা যায়—বর্ষার পানিতে যেমন নদী ফুলে ওঠে, তেমনি মানুষের জীবনের আবেগ, কষ্ট ও আশা-নিরাশাও উথলে ওঠে।
বইটিতে উঠে এসেছে দরিদ্র কৃষক পরিবার, দিনমজুর, নৌকার মাঝি, গ্রামের নারী ও তরুণদের জীবনসংগ্রাম। অনেক গল্পে দেখা যায়, বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়, ফসল নষ্ট হয়, তবু তারা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে। কোথাও ভালোবাসার গল্প আছে—যেখানে দুই তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন বাস্তবতার কঠিন আঘাতে ভেঙে যায়, আবার কোথাও পরিবার টিকিয়ে রাখার সংগ্রামই হয়ে ওঠে প্রধান বিষয়।
লেখক প্রতিটি গল্পে খুব সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র করে গভীর মানবিক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। একদিকে আছে মায়ের অসহায় চোখ, অন্যদিকে আছে বাবার নীরব কষ্ট। আবার কোথাও আছে গ্রামের ছেলের শহরে যাওয়ার স্বপ্ন, অথচ দারিদ্র্য তাকে আটকে রাখে। ‘শ্রাবণের দিন’-এর গল্পগুলো পাঠককে বোঝায়—জীবন শুধু সুখের নয়, জীবনের প্রকৃত রূপ লুকিয়ে আছে কষ্টের মধ্যেও।
পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারী বন্ধুরা বলেন, এই বই আমাদের শেখায়— মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেও টিকে থাকে। সম্পর্কই জীবনের আসল শক্তি এবং দুঃখের মধ্যেও আশা খুঁজে নেওয়াই জীবনের শিক্ষা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘শ্রাবণের দিন’ শুধু গল্পের বই নয়, এটি গ্রামবাংলার একটি বাস্তব চিত্র। এতে দেখা যায়—বর্ষার দিনে কাদামাটিতে চলা মানুষের জীবন, নদীর পাড়ে অপেক্ষমাণ চোখ, আর বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় চাপা কান্না। এসব দৃশ্য পাঠকের মনে গভীর অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং আমাদের সমাজের প্রতি নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, কক্সবাজার সিটি কলেজ বন্ধুসভা