শাহজাহানের বন্দিজীবন ও মানবিক ট্র্যাজেডি ‘সাজাহান’ নাটক

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইউসিতে শাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রছবি: বন্ধুসভা

ডি.এল. রায় রচিত ‘সাজাহান’ নাটকটি মোগল সম্রাট শাহজাহানের জীবনের শেষ দিককার ট্র্যাজেডি নিয়ে লেখা। এই নাটকে ক্ষমতার লোভ কীভাবে পারিবারিক সম্পর্ক, ভালোবাসা ও মানবিকতাকে ধ্বংস করে দেয়, তা অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

নাটকের প্রধান চরিত্র শাহজাহান তখন সাম্রাজ্যের শিখরে। কিন্তু তাঁর চার পুত্র—দারা, সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ সিংহাসনের অধিকার নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত। আওরঙ্গজেব অত্যন্ত চাতুরীর সঙ্গে ভাইদের একে একে পরাজিত করেন। প্রথমে তিনি সুজা ও মুরাদকে সরিয়ে দেন এবং এরপর দারাকে কৌশলে বন্দী করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। নিজের সিংহাসন নিষ্কণ্টক করার পর আওরঙ্গজেব তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে আগ্রা দুর্গে বন্দী করেন।

বন্দী অবস্থায় শাহজাহানের পাশে কেবল তাঁর বড় মেয়ে জাহানারা থাকেন। বন্দিজীবনে শাহজাহান প্রতিদিন তাজমহলের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী মমতাজের স্মৃতি, তাঁদের ভালোবাসার স্মৃতি এবং গৌরবময় অতীত বারবার তাড়া করে। অন্তরে শুধু একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খায়, ‘আমি কি আমার জীবনটা সত্যিই ভুলভাবে কাটিয়েছি?’

এই নাটক কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং এটি ক্ষমতার জন্য মানুষের নৈতিক অধঃপতন, ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ও মানবজীবনের গভীর ট্র্যাজেডির এক করুণ গাথা।

৯ সেপ্টেম্বর বইটি নিয়ে পাঠচক্র করে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইউসিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। পাঠচক্র সঞ্চালনা করেন বন্ধু শিলা আক্তার। নাটকটি নিয়ে আলোচনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ইয়ারমিন আক্তার।