গল্পটি হ্যাজেল গ্রেস ল্যাংকাস্টার আর অগাস্টাস ওয়াটার্স নামে দুই তরুণ-তরুণীর। থাইরয়েড ও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হ্যাজেল। পরীক্ষামূলক একটি ওষুধের বদৌলতে বাড়তি কিছুদিনের আয়ু কিনেছে। অন্যদিকে হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত অগাস্টাস। ইতিমধ্যে একটা পা কেটে ফেলতে হয়েছে তার। ক্যানসারে আক্রান্ত তরুণ-তরুণীদের পরামর্শসেবা দেওয়ার জন্য তৈরি একটি দলের সভায় দেখা হয় তাদের। বইয়ের কথাগুলো বলছিলেন অর্থসম্পাদক মানিক আহমেদ।
২৭ জুন প্রথম আলো ভৈরব অফিসে ভৈরবসভার বন্ধুরা মুদ্রিত বই পড়ার আসর পাঠচক্রের আয়োজন করে। এবারের বিষয় ছিল লেখক জন গ্রিনের ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস’ অবলম্বনে অনূদিত বই ‘তুমি রবে নীরবে’। ১৫৬তম পাঠের আসরটি সঞ্চালনা করেন পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক জান্নাতুল মিশু।
সাধারণ সম্পাদক রিফাত তাঁর আলোচনায় বলেন, ‘হ্যাজেল গ্রেস ও অগাস্টাস ওয়াটার্স বাস্তবতায় দুজনের গন্তব্য আলাদা হলেও প্রেমে পড়ে তারা, পরস্পরের সান্নিধ্যে খুঁজে নেয় জীবনের অর্থ। হ্যাজেলের জীবনে প্রেম আসে পদ্মপাতার শিশিরের ছোঁয়ার মতো। নতুন এক স্বপ্ন, ভালোবাসা, অসুস্থতা ও মৃত্যু—নতুন ব্যঞ্জনা নিয়ে হাজির হয় দুজনের সামনে।’
বইটির মূল লেখক জন গ্রিন ও অনুবাদক মোস্তাক শরীফ সম্পর্কে আলোচনা করেন জান্নাতুল মিশু। নাফিস রহমানের আলোচনা ওঠে আসে হ্যাজেল গ্রেস আর অগাস্টাস ওয়াটার্সের প্রণয়ের দিনগুলো। দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত ১৭ বছরের তরুণী হ্যাজেল গ্রেস ও হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত অগাস্টাসের জীবনে প্রেম আসে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও একে অপরের প্রেমে পড়ে তারা। হ্যাজেলের প্রতিটি ছোট ছোট ইচ্ছের প্রতি অগাস্টাসের খেয়াল ছিল। সে চাইত, তার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ যেকোনো কিছুর মূল্যে ভালো থাকুক। হ্যাজেলের ইচ্ছা ছিল, ‘অ্যান ইম্পেরিয়াল এফ্লিকেশন’ বইটির লেখক পিটার ভেন হাউটেনের সঙ্গে দেখা করা। অগাস্টাস সেই ইচ্ছা পূরণ করে জিনি ফাউন্ডেশনের সহায়তায়। প্রাক্-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আট দিন পর অগাস্টাস মারা যাওয়ার পর হ্যাজেলের জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ অন্ধকার। এত দিন যে অগাস্টাস ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন, সে চলে যাওয়ার পর প্রতিটি সেকেন্ড যেন মনে হচ্ছে অনন্তকাল। অগাস্টাসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার যোগ দিতে আমস্টারডম থেকে উড়ে আসেন লেখক পিটার ভেন হাউটেন, তাকে দেখে অবাক হয় হ্যাজেল।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা বলেন, ‘ভৌগোলিক দূরত্বকে জয় করে সৃষ্টিশীল সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয় অনুবাদ। তবে যখন একটি গ্রন্থ অনূদিত হয়, তখন মূলধারা থেকে কিছুটা হলেও সরে আসে। টিন রোমান্টিক ধারায় লেখা “তুমি রবে নীরবে” বইটির অনুবাদ ভালো হয়েছে।’
সভাপতি নাহিদ হোসাইন পুরো বইটি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যে ব্যাপারটি ভালো লাগে তা হলো, তাদের বন্ধুত্ব হয় “অ্যান ইম্পেরিয়াল এফ্লিকেশন” বইয়ের আলোচনা থেকে। হ্যাজেলের সময় কাটানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল বই পড়া। একে অপরের সঙ্গে বুক রিভিউ শেয়ার করা, নিজের মতামত দেওয়া, মিষ্টি তর্কে জড়িয়ে পড়া এই দিকগুলো ভালো লেগেছে। অগাস্টাস মারা যাওয়ার আগে ভ্যান হাউটেনকে চিঠি লিখেছিল। সেখানে ওঠে আসে হ্যাজেলকে নিয়ে তার ভালোবাসার কথা। অগাস্টাসের ভাষায়, “হ্যাজেল অন্য রকম, এমন মৃদু পায়ে সে হাঁটে, যেন পৃথিবী কষ্ট না পায়। আহা, আরেকটু যদি সময় পেতাম, একে অপরকে আরও কিছুদিন ভালোবাসার জন্য”।’
অগাস্টাসের চিঠির আক্ষেপ বন্ধুদের চোখ ভিজিয়ে দেয়। ভালোবাসা যে কত সুন্দর, তা যত্ন করে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মহিমা মেধা, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তানশি নাহার, অর্ণব সাহা ও তাহমিনা ইসলাম।