সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় প্রাত্যহিক জীবনে। অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণ মহড়ার আয়োজন করে দিনাজপুর বন্ধুসভা। ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ' শিরোনামে ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় কীভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে বাস্তবমুখী জ্ঞান প্রদান করা হয়।
দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতায় বেলা ১১টায় শুরু হয় মহড়া। প্রশিক্ষণ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দিনাজপুর স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবদুল মালেকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। তারা অগ্নিকাণ্ডের বিভিন্ন ধরন এবং তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্রদর্শন করে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন লাগলে ভীতি দূর করে কীভাবে ভেজা চট বা হাতের কৌশলে আগুন নেভানো যায়, তার বাস্তব প্রদর্শনী শিক্ষার্থীদের নজর কেড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের হাতে- কলমে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেন। উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দিনাজপুর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ওবায়দুল ইসলাম। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রথম ৫ থেকে ১০ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই যদি সাধারণ মানুষ প্রাথমিক নির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে, তবে ৯০ শতাংশ বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। শিক্ষার্থীরা এই কৌশলগুলো শিখলে তারা তাদের পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
দিনাজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বন্ধুসভার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের এটি একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান, যেখানে দাহ্য পদার্থ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কাজ বেশি হয়। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণটি ছিল সময়ের দাবি।'
শিক্ষার্থীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া তুহিন ইসলাম বলে, ‘আমি আগে অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার ব্যবহার করতে ভয় পেতাম। আজ নিজ হাতে এটি ব্যবহার করে আগুন নিভিয়েছি। এখন আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে যে কোনো ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলে অন্তত ভয় না পেয়ে সেটি নেভানোর চেষ্টা করতে পারব।’
দিনাজপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন একেকজন দক্ষ ভলান্টিয়ার হিসেবে গড়ে ওঠে। অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আশা করি সবার উপকারে আসবে।'
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শবনম মুস্তারিন, সহসভাপতি দীপু রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন সিংহ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুমা আক্তার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শুভজিৎ রায়, পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মুনিরা শাহনেওয়াজ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আল আবিক, বন্ধু ছাবেকুন নাহার, আরফিন রহমান, আনিকা তাসনিম, শ্রাবণ আসিফ ও প্রথম আলোর বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা সাব্বির হাসান।
বন্ধু, দিনাজপুর বন্ধুসভা