সংগ্রাম, মাতৃত্ব আর সময়ের গল্প ‘জননী’

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: জামিউল হাসান

‘জননী’ উপন্যাসটিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় শ্যামার জীবনের নানা উত্থান ও বিপর্যয়ের সাক্ষী করে তুলেন পাঠককে। এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস, যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালে ঝাড়খন্ডে জন্মগ্রহণ করেন। স্বল্প আয়ুর অধিকারী এই লেখক রচনা করেছেন চল্লিশটির মতো উপন্যাস, আর তিন শতাধিক ছোটগল্প। ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’, ‘দিবা রাত্রির কাব্য’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ইত্যাদি রচনা বাংলা সাহিত্যে রত্নতুল্য সৃষ্টি। তিনি জীবন ও বাস্তবতার নানা সমীকরণকে খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় তাঁর রচনাগুলোয় তুলে ধরেছেন।

১৭ এপ্রিল ‘জননী’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘জননী’ উপন্যাসের শুরু ও শেষ দুটোই সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে। শুরুর সম্ভাবনাটি লেখক নিজের কল্পনা ও তৎকালীন সমাজব্যবস্থার আদলে রূপায়িত করে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করলেও শেষের সম্ভাবনাটি কিংবা বিশেষ করে সুবর্ণলতার সদ্যপ্রাপ্ত মাতৃত্ব; সময়ের ধারায় প্রতি যুগে প্রতি প্রজন্মে সম্পূর্ণ নতুন গল্প কিংবা নতুন কল্পনা সৃষ্টি করে যাবে। উপন্যাসটি কিশোরী বধূ থেকে অনেকগুলো বয়সের সিঁড়ি পার করা মধ্যবয়স্ক শ্যামা নাকি জননী শ্যামার গল্প, সেটা আলাদা করে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ, লেখক শ্যামার জীবনকে এমনভাবে নির্মাণ করেছেন, তা যেন অনবরত আমাদের সামনে ঘটে চলা বর্তমান।

কিছু মুহূর্তের জন্য পাঠক শ্যামার দুনিয়ায় প্রবেশ করে। মন্থর সময়ের সিঁড়ি বেয়ে কখন শ্যামা তরুণ ও যৌবনরেখা পার করে মধ্যবয়স্ক হয়ে উঠল, তা টের পাওয়া বেশ কঠিনই ছিল। কিন্তু শ্যামার একাকিত্ব আর সংসারের দুর্দশা যে জীবনের এতটা সময় সে বয়ে চলেছিল, তা পাঠকের দৃষ্টির আড়াল হয়নি। স্বামী শীতলকে কোনোকালেই পরিপূর্ণভাবে পায়নি শ্যামা। জড় অস্তিত্ব হিসেবে পাশে থাকলেও মানসিকভাবে শ্যামা সব সময়ই একা। লেখক শ্যামাকে দোষত্রুটিহীন নায়িকা হিসেবে চিত্রায়িত করেননি। কিন্তু নিঃসন্দেহে একজন আদর্শ জননী হিসেবে নির্মাণ করেছেন, কিংবা সব নারীই হয়তো জননী হিসেবে এমনই পরিপূর্ণতা লাভ করেন।

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর
ছবি: জামিউল হাসান

পাঠ পর্যালোচনায় বন্ধু প্রত্যাশা তালুকদার বলেন, ‘উপন্যাসটিতে কেবল জননী হিসেবে নয়; নারী হিসেবে শ্যামার মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রাম তৎকালীন সমাজের পরিপ্রেক্ষিত উপস্থাপিত হয়েছে।’

বন্ধু কৃত্য ছত্রী লেখক–সম্পর্কিত আলোচনায় বলেন, ‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাসটি প্রথম রচিত হলেও ‘জননী’ উপন্যাসটি প্রথমে প্রকাশিত হয়।

বন্ধু সুমন দাস বলেন, ‘উপন্যাসটি বাঙালি মায়েদের সংগ্রামের প্রতীক।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সমরজিত হালদার, মিনথিয়া রহমান, প্রণব চৌধুরী, অম্লান রায়, শুভ তালুকদার, জামিউল হাসান, আহসানউল্লাহ খানসহ অনেকে।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা